রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহের অনিশ্চয়তায় চাপে পড়েছে শহরবাসী। আর সেই কারণেই বিকল্প পথ বেছে নিচ্ছেন অনেকেই। কলকাতা জুড়ে এখন বৈদ্যুতিক রান্নার সরঞ্জামের চাহিদা হু হু করে বাড়ছে। বিশেষ করে Liquefied Petroleum Gas (LPG) বা রান্নার গ্যাসের উপর নির্ভরতা কমাতে ইন্ডাকশন কুকার ও ইলেকট্রিক কেটলির বিক্রি এক ধাক্কায় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারেও। তার জেরেই গ্যাসের জোগান নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এর সঙ্গে সম্প্রতি সিলিন্ডারের দাম প্রায় ৬০ টাকা বাড়ায় সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও গভীর হয়েছে। ফলে অনেকেই এখন বিকল্প হিসেবে ইন্ডাকশন কুকার, ইলেকট্রিক কেটলি বা রাইস কুকারের মতো বৈদ্যুতিক যন্ত্রের দিকে ঝুঁকছেন।
শহরের ইলেকট্রনিক বাজারগুলিতে এই প্রবণতা স্পষ্ট। চেন্নাই মার্কেট এবং এগরা স্ট্রিট-এর দোকানগুলিতে এখন ইন্ডাকশন কুকার কেনার ভিড় চোখে পড়ার মতো। ব্যবসায়ীদের দাবি, সাধারণ দিনে যেখানে একটি আউটলেটে ৪০-৪৫টি ইন্ডাকশন কুকার বিক্রি হত, সেখানে এখন সেই সংখ্যা ১২০-১৩০ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ বিক্রির হার প্রায় তিনগুণ বেড়েছে।
শুধু ইন্ডাকশন কুকার নয়, ইলেকট্রিক কেটলি, মাইক্রোওয়েভ ওভেন এবং রাইস কুকারের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। অনেকেই ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংকটের কথা ভেবে আগেভাগেই বিকল্প রান্নার ব্যবস্থা ঘরে মজুত রাখছেন।
এদিকে গ্যাস বুকিংয়ের নিয়মেও কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, একটি সিলিন্ডার নেওয়ার পরে ২৫ দিন পার না হলে দ্বিতীয় সিলিন্ডার বুক করা যাবে না। এই বিধিনিষেধও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন রান্নার পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলেছে।