Calcutta Television Network

২০২৬-এর শারদীয়ার নিখুঁত নির্ঘণ্ট...

২০২৬-এর শারদীয়ার নিখুঁত নির্ঘণ্ট...

3 October 2025 , 11:03:49 am

দূর্গাপুজোর আবহময় সৌন্দর্য কেবল মণ্ডপ সাজসজ্জা বা বর্ণিল রঙে সীমাবদ্ধ নয়। এটি বাঙালির হৃদয়ে এক আলাদা উচ্ছ্বাসের খনি। ২০২৬ সালের শারদীয়া দুর্গাপুজোর সময়সূচি জেনে রাখা মানে হল পুরো উৎসবকালকে আরও নিখুঁতভাবে উপভোগ করার প্রস্তুতি। তাই চলুন, এক নজরে দেখে নিই পরবর্তী বছর দুর্গাপুজোর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ তারিখ।

২০২৬ সালে, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ অনুযায়ী মহালয়া হবে ১০ অক্টোবর, শনিবার। এদিনটি দেবীপক্ষের সূচনা এবং পিতৃপক্ষের সমাপ্তি। এই দিনটি কেবল মন্ত্রপঠনের জন্য নয়, বরং বাঙালির ঘরে ঘরে এক প্রাচীন রীতি অনুযায়ী আয়োজিত হয় নবরাত্রি উৎসবের উদ্বোধন। মহালয়া মানে শুধু ভক্তির মিশ্রিত আবহ নয়, এটি আগমনের বার্তা দেয় সেই শারদীয়া দেবীর যিনি কয়েকদিন পর মণ্ডপে আসবেন ভক্তদের প্রণাম গ্রহণ করতে।

মহালয়ার এক সপ্তাহ পরেই ১৭ অক্টোবর, শনিবার। এদিন হবে ষষ্ঠী, যাকে দুর্গাপুজোর প্রারম্ভিক দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। এই দিনটি মণ্ডপে দেবীর বোধনের মাধ্যমে পুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে। মণ্ডপ-মণ্ডপে শুরু হয় পূজা সামগ্রী সাজানোর শেষ মুহূর্ত, প্যান্ডেল প্রস্তুতির চূড়ান্ত কাজ, এবং ভক্তদের উদ্দীপ্ত ভক্তি।

এরপরের দিন, ১৮ অক্টোবর, রবিবার, সপ্তমী। এই দিনটির বিশেষত্ব হল ভোরবেলায় কলাবৌ স্নান ও নবপত্রিকা পুজো। বাঙালি বাড়ির সকালের রোদের সঙ্গে মিলিত হয় পুজোর শুভ ঘ্রাণ। সপ্তমী হলো সেই দিন, যখন সত্যিকারের দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ভক্তরা দেবীর আগমন উপলক্ষে ফুল, মিষ্টি ও প্রদীপ নিয়ে মণ্ডপে হাজির হন।

সবচেয়ে আলোচিত দিন হল ১৯ অক্টোবর, সোমবার, যা মহা অষ্টমী নামে পরিচিত। এই দিনটি দুর্গাপুজোর চরম মুহূর্ত। সকালবেলায় অনুষ্ঠিত হয় অষ্টমীর অঞ্জলি। ভক্তদের মনে থাকে এক অদ্ভুত উৎফুল্লতা ও ভক্তির মিশ্রণ। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় সন্ধিপুজো, যা দুর্গাপুজোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং আবেগপূর্ণ অংশ। তিনটি দেবীর সঙ্গে তিনটি প্রদীপ জ্বালিয়ে শুভতা ও শক্তি অর্জনের প্রতীকী রীতি পালন করা হয়।

পরের দিন, ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার, নবমী। পাঁচদিন ব্যাপী মূল পর্বের শেষ দিন এই নবমী। মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হয় শেষ লগ্নের পুজো। প্রতিটি মণ্ডপেই লক্ষ্য করা যায় ভক্তদের আনন্দের ছাপ, যারা এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ফুল, হালকা আলো ও ভক্তির ছোঁয়া মিশিয়ে দেন।

সবশেষে আসে ২১ অক্টোবর, বুধবার, বিজয়া দশমী। দেবীর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয় পূজো উৎসব। দশমীতে সিঁদুর খেলা, প্রণাম বিনিময়, মিষ্টিমুখ-all traditions that bring community spirit alive. তবে একই সঙ্গে দেখা যায় বিজয়া দশমীর বিষাদাচ্ছন্ন আবহ। কারণ প্রতিটি ভক্তের মনে থাকে দেবীর আসার আনন্দ, যা এখন বিদায়ের চোখে ভেসে আসে। প্রসঙ্গত, এদিনই পালিত হয় দশেরা, যা বাঙালির প্রাচীন উৎসবের অংশ।

২০২৬ সালে দুর্গাপুজোর পর কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো হবে ২৫ অক্টোবর। এই দিনটি বাঙালির ঘরে ঘরে ধন-সমৃদ্ধির প্রার্থনার সঙ্গে উদযাপিত হয়। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো মানেই রাত জেগে প্রার্থনা, আর্থিক সুখ ও পরিবারের মিলন। ২০২৬ সালের এই পূজা ঠিক সময়মতো আসার মাধ্যমে শারদীয়া উৎসবকে আরও সমৃদ্ধ করে।

শারদীয়ার এই ক্যালেন্ডার শুধু তারিখের হিসাব নয়, এটি বাঙালির ঐতিহ্য, ভক্তি ও সংস্কৃতির প্রতিফলন। প্রতিটি দিনই আলাদা রঙে, ভিন্ন ভঙ্গিতে উদযাপিত হয়। মহালয়া থেকে শুরু করে বিজয়া দশমী পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্তে ছড়িয়ে থাকে আনন্দ, ভক্তি ও ঐক্যের স্পর্শ। সেজন্যই, দুর্গাপুজো কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়।

0 0 0

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে সমর্থন করেন?

Note:"আপনার তথ্যের গোপনীয়তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি বিশ্লেষণধর্মী কথোপকথন এবং এখানে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ বা প্রকাশ করা হবে না"
×
  • CTVN