বাংলার লোকাচার ও সংস্কৃতিতে সরস্বতী পুজো একটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বিদ্যা, বুদ্ধি ও সৃষ্টিশীলতার দেবী সরস্বতীর আরাধনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা বিশ্বাস, রীতি ও লোককথা। তার মধ্যেই একটি বহুল প্রচলিত ধারণা হলো—সরস্বতী পুজোর আগে কুল খাওয়া নিষেধ। কিন্তু এই বিশ্বাসের পেছনে কী যুক্তি বা সামাজিক তাৎপর্য রয়েছে, তা জানা জরুরি।
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, কুল হলো সরস্বতী দেবীর প্রিয় ফল। তাই পুজোর আগে কুল খেলে দেবীর অমর্যাদা হয়—এমন ধারণা বহুদিন ধরে প্রচলিত। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে এই বিশ্বাস আরও দৃঢ়। বলা হয়, পুজোর আগে কুল খেলে লেখাপড়ায় মন বসে না বা বিদ্যায় বাধা আসে। যদিও এসব বিশ্বাসের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, তবু সমাজে তা দীর্ঘদিন ধরে প্রথা হিসেবে টিকে আছে।
আসলে এই রীতির পেছনে একটি সামাজিক ও প্রতীকী অর্থ খুঁজে পাওয়া যায়। কুল সাধারণত শীতের শেষ দিকে বাজারে আসে এবং সরস্বতী পুজোর দিন দেবীর চরণে কুল নিবেদন করা হয়। পুজোর আগে কুল না খাওয়ার মাধ্যমে মানুষ এক ধরনের সংযম ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করে। এটি দেবীর প্রতি ভক্তি ও অপেক্ষার প্রতীক হিসেবেই দেখা যায়।
আরও একটি দিক হলো শৃঙ্খলা ও নিয়ম শেখানো। ছোটদের মনে ধর্মীয় আচারকে গুরুত্ব দিতে এবং নিয়ম মানার অভ্যাস গড়ে তুলতেই এই ধরনের লোকবিশ্বাস সমাজে চালু হয়েছে বলে অনেকের মত। এতে পুজোর আনন্দ ও তাৎপর্য আরও বাড়ে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সরস্বতী পুজোর আগে কুল খেলে বাস্তবে কোনো অশুভ ঘটনা ঘটে না। এটি মূলত একটি লোকাচার ও সাংস্কৃতিক বিশ্বাস। আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে যুক্তিবাদী হওয়া জরুরি হলেও, এই ধরনের রীতিনীতির মাধ্যমে বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধনের কথাও মনে পড়ে। তাই বিশ্বাস আর বোধের মধ্যে সামঞ্জস্য রেখেই এই রীতিকে দেখা উচিত।