আজ জ্যৈষ্ঠ অমাবস্যার পবিত্র রাতে পালিত হবে ফলহারিনী কালীপুজো। বিশ্বাস করা হয়, এই বিশেষ তিথিতে মা কালী ভক্তদের অশুভ কর্মফল দূর করে শুভ শক্তি ও আশীর্বাদ দান করেন। তাই এই অমাবস্যাকে 'ফলহারিণী অমাবস্যা' নামেও ডাকা হয়।
শাস্ত্রমতে, আজ রাতে মা কালীর পুজোয় মরশুমি ফল নিবেদন অত্যন্ত শুভ। বিশেষ করে তিনটি ফল-আম, জাম ও লিচু-মা কালীর অত্যন্ত প্রিয় বলে মনে করা হয়। জ্যোতিষ মতে, বিজোড় সংখ্যায় এই ফল নিবেদন করলে দেবী তুষ্ট হন এবং ভক্তের মনস্কামনা পূরণ করেন।
এবার বলি, ফল নিবেদনের বিশেষ নিয়ম...
আজ যে ফল দেবীকে উৎসর্গ করবেন, বিশ্বাস অনুযায়ী আগামী এক বছর সেই ফল নিজে খাওয়া উচিত নয়। পুজোর পরে সেই ফল বাড়িতে রেখে দিতে হয়। পরে ফলটি নষ্ট হয়ে গেলে জলে বিসর্জন দেওয়ার বিধান রয়েছে। পরের বছর একই তিথিতে আবার সেই ফল নিবেদন করলে ব্রত সম্পূর্ণ হয়।
যদি আম, জাম বা লিচু না পাওয়া যায়, তাহলে আপেল বা পেয়ারা দিয়েও পুজো করা যেতে পারে। এছাড়া যেকোনও মরশুমি ফল বিজোড় সংখ্যায় নিবেদন করলেও শুভ ফল পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস।
মনে করা হয়, মা ফলহারিণী কালী ভক্তদের পাপ ও দুঃখ হরণ করে জীবনে শুভ ফল এনে দেন। দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরে এই তিথির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, এই দিনেই রামকৃষ্ণ পরমহংস মা সারদা দেবীকে দেবীরূপে পূজা করেছিলেন।
আজকের এই বিশেষ দিনে করতে হবে মাত্র এই কয়েকটা কাজ, তাহলেই জীবনে আসবে সাফল্য... ধনধান্যে ভরে উঠবে জীবন। আজকের এই বিশেষদিনে অবশ্যই মৌনব্রত পালন করবেন এবং তার পাশাপাশি দরিদ্রদের দান করবেন। অশ্বত্থ গাছের গোড়ায় গঙ্গাজল, কাঁচা দুধ ও কালো তিল অর্পণ করতে হবে। ভক্তিভরে পুজো করলে আজকের এই মহাশক্তির রাতে জীবনে শুভ শক্তির আগমন ঘটবে বলেই বিশ্বাস করেন সাধকরা।