হিন্দু ধর্মে অন্নকে জীবনের মূল ভিত্তি বলা হয়। সেই অন্নেরই অধিষ্ঠাত্রী দেবী হলেন অন্নপূর্ণা। বিশ্বাস করা হয়, নিষ্ঠা ও ভক্তিভরে দেবীর আরাধনা করলে সংসার থেকে দূর হয় অভাব-অনটন এবং জীবনে আসে সুখ-সমৃদ্ধি।
পুরাণকথা অনুযায়ী, একসময় দেবাদিদেব শিবের সঙ্গে দেবী অন্নপূর্ণার মতবিরোধ হয়। সেই কারণে দেবী কৈলাস ত্যাগ করেন। দেবী চলে যেতেই পৃথিবীতে দেখা দেয় ভয়াবহ খাদ্যাভাব ও দুর্ভিক্ষ। ভক্তদের এই দুর্দশা দেখে মহাদেব নিজেই ভিক্ষার ঝুলি কাঁধে তুলে নেন। কিন্তু দেবীর কৃপা ছাড়া অন্নও যেন পৃথিবী থেকে লুপ্ত হয়ে যায়-কোথাও ভিক্ষা মেলে না।
এরপর মহাদেব জানতে পারেন, পবিত্র নগরী বারানসীতে এক দেবীস্বরূপা নারী সকলকে অন্নদান করছেন। সেখানে পৌঁছে মহাদেব বুঝতে পারেন-তিনি আর কেউ নন, স্বয়ং দেবী অন্নপূর্ণা। দেবীর কাছ থেকে অন্ন গ্রহণ করে মহাদেব আবার পৃথিবীর মানুষকে খাদ্যাভাব ও মহামারি থেকে রক্ষা করেন। সেই থেকেই দেবী অন্নপূর্ণাকে অন্নদাত্রী ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে পুজো করা হয়।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী চৈত্র মাসের শুক্লা অষ্টমী তিথিতে কাশীতে দেবী অন্নপূর্ণার আবির্ভাব হয়েছিল। তাই এই তিথিতে বিশেষ ভক্তিভরে দেবীর পুজো করা হয়। চলতি বছরে ২৬ মার্চ, বৃহস্পতিবার পালিত হচ্ছে শ্রীশ্রী অন্নপূর্ণা পূজা।
পঞ্জিকা অনুসারে, অষ্টমী তিথি শুরু হয়েছে ২৫ মার্চ দুপুরে এবং শেষ হবে ২৬ মার্চ সকাল নাগাদ। এরপর নবমী তিথি শুরু হয়ে চলবে পরদিন পর্যন্ত।
এই দিন অনেক ভক্ত দেবীর উদ্দেশ্যে অন্নভোগ, খিচুড়ি বা ভাত-ডাল নিবেদন করেন এবং দরিদ্রদের মধ্যে অন্নদান করেন। বিশ্বাস করা হয়, অন্নপূর্ণা দেবীর কৃপায় ঘর ভরে ওঠে খাদ্য, শান্তি ও সমৃদ্ধিতে।