রিখটার স্কেলে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বাংলাদেশ। উৎসস্থল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা, ভূগর্ভের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। দুপুর ১টা ৫২ মিনিট নাগাদ কম্পন অনুভূত হয়, আতঙ্কে মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন। যদিও এখনও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে- কেন বারবার কাঁপছে বাংলাদেশ?
এর আগে ৫.১ মাত্রার কম্পন ঢাকাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে নাড়িয়ে দিয়েছিল, যার উৎস ছিল মায়ানমার। টানা কয়েক দিনের ব্যবধানে একাধিক ভূমিকম্প স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। একই দিনে কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।
ভূতত্ত্ববিদদের মতে, এর পেছনে রয়েছে টেকটোনিক প্লেটের জটিল অবস্থান। বাংলাদেশ অবস্থিত ভারতীয় প্লেট ও বার্মা (মায়ানমার) মাইক্রোপ্লেটের সংযোগস্থলে। এই অঞ্চলটি ‘সাবডাকশন জোন’ বা সংঘর্ষপ্রবণ এলাকা। ফলে ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প এখানে অস্বাভাবিক নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫ থেকে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প মাঝারি শক্তির ধরা হয়। এতে বড় ধ্বংস না হলেও সতর্ক থাকা জরুরি। বারবার কম্পন মানেই বড় বিপর্যয়ের পূর্বাভাস- এমন ধারণা সবসময় সঠিক নয়। অনেক সময় ছোট কম্পনই জমে থাকা শক্তি ধীরে ধীরে মুক্ত করে বড় বিপর্যয় ঠেকাতে সাহায্য করে।
তবে বাংলাদেশ ও পূর্ব ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত সংবেদনশীল। অতীতে ভয়াবহ ভূমিকম্পের ইতিহাস রয়েছে এই অঞ্চলে। তাই আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন প্রস্তুতি- মজবুত নির্মাণব্যবস্থা, দুর্যোগ সচেতনতা এবং দ্রুত সতর্কীকরণ ব্যবস্থা।