সত্যিই কী আজও আছে কাকাবাবুর সেই 'নীল আগুন'! কাকাবাবুর সেই অ্যাডভেঞ্চার কাহিনি আমাদের চিরস্মরণীয় থাকবে আজীবন, তার সঙ্গে তার সঙ্গী সন্তুর মধ্যে ছিল অবাধ জানার আগ্রহ, ছিল বুদ্ধিদীপ্ত চিন্তাভাবনা। কাকাবাবু সেই নিষিদ্ধ দ্বীপে গিয়ে পেয়েছিল নীল আগুনের সন্ধান... কিন্তু এখন প্রশ্ন হল সত্যিই কী ছিল সেই নীল আগুন? নাকি আছে এমন কোনও আগুন! কোথায় গেলে দেখা মিলবে সেই আগুনের? তবে হ্যাঁ এর মধ্যে আসতে পারে নানান তর্ক-বিতর্ক, সে সমস্তকে দূরে ফেলে আজ খুঁজবো সেই নীল আগুনের রহস্য।
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় অ্যাডভেঞ্চার সিরিজের নায়ক কাকাবাবু ও তার সঙ্গী সন্তু। লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এই দুই চরিত্রকে এমনভাবে নির্মাণ করেছিলেন যে তাঁদের প্রতিটি অভিযানে বাস্তব, রহস্য ও বিজ্ঞান একসঙ্গে মিশে থাকে।
এই সব অভিযানের মধ্যেই সবচেয়ে আলোচিত রহস্যগুলির একটি হল 'নীল আগুন'। গল্পে দেখা যায়, এক নিষিদ্ধ দ্বীপে গিয়ে কাকাবাবু এমন এক অদ্ভুত আগুনের সন্ধান পান যার রং উজ্জ্বল নীল। সেই থেকেই পাঠকদের মনে প্রশ্ন-এ কি নিছক কল্পনা, নাকি সত্যিই পৃথিবীতে এমন আগুন দেখা যায়?
অবাক করার বিষয় হল... নীল আগুন সত্যিই পৃথিবীতে রয়েছে। বাস্তবে এই বিস্ময়কর দৃশ্য দেখা যায় ইন্দোনেশিয়ার বিখ্যাত আগ্নেয়গিরি কাওয়াহ ইজেন (Kawah Ijen)-এ। রাতের অন্ধকারে সেখানে পাহাড়ের গা বেয়ে জ্বলতে দেখা যায় নীল রঙের আগুন, যা দূর থেকে দেখতে অনেকটা নীল লাভার মতো মনে হয়।
এর পেছনে রয়েছে একেবারে বৈজ্ঞানিক কারণ। আগ্নেয়গিরির ভিতর থেকে বেরিয়ে আসে সালফার গ্যাস। এই গ্যাসের তাপমাত্রা প্রায় ৬০০° সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছায়। যখন এই গ্যাস বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসে, তখন তা জ্বলে ওঠে এবং আগুনের শিখা নীল রঙ ধারণ করে। অনেক সময় জ্বলন্ত সালফার গলিত অবস্থায় পাহাড় বেয়ে নেমে আসে-যা দেখতে নীল লাভার মতো লাগে।
শুধু আগ্নেয়গিরিতেই নয়, কিছু বিশেষ গ্যাস যেমন মিথেন বা সালফার জ্বললেও নীল আগুন দেখা যায়। এমনকি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাগারে গ্যাস বার্নারের শিখাও প্রায়শই নীল হয়, কারণ সেখানে সম্পূর্ণ দহন ঘটে।
তাই অনেক গবেষকের মতে, কাকাবাবুর গল্পের নীল আগুন সম্ভবত বাস্তবের এমন কোনও আগ্নেয়গিরি বা সালফার গ্যাসের ঘটনাই থেকে অনুপ্রাণিত।
অর্থাৎ কাকাবাবুর রহস্যময় নীল আগুন পুরোপুরি কল্পনা নয়; তার পেছনে রয়েছে বিজ্ঞান, এটি হল পৃথিবীর এক বিস্ময়কর প্রাকৃতিক ঘটনা।