বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মাঝেই আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে ভবিষ্যদ্বক্তা বাবা ভাঙ্গার নাম। সোনার দাম নিয়ে তাঁর কথিত ভবিষ্যদ্বাণী নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। প্রশ্ন উঠছে-২০২৬ সালে কোথায় গিয়ে থামবে সোনার দাম?
বিশ্ব অর্থনীতিতে সোনাকে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপদ বিনিয়োগের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। অর্থনৈতিক সংকট, যুদ্ধ পরিস্থিতি বা মুদ্রাস্ফীতি বাড়লেই বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকে পড়েন সোনার দিকে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলেই সোনার দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করে।
২০২৫ সালেই এই প্রবণতার বড় প্রমাণ মিলেছে। মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ অফ ইন্ডিয়া (MCX)-তে সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১ লক্ষ টাকার সীমা শুধু ছুঁয়েই থামেনি, তা অতিক্রমও করেছে। এই ঘটনা অনেককেই বিস্মিত করেছিল। তখন থেকেই প্রশ্ন উঠছিল-যদি ২০২৫ সালে এমন হয়, তবে ২০২৬ সালে কী হতে পারে?
বিশ্ব পরিস্থিতি কিন্তু এখনও স্থিতিশীল নয়। নানা অর্থনৈতিক টানাপোড়েন, বাণিজ্যিক সংঘাত এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ বিশ্ববাজারকে অস্থির করে রেখেছে। অতীতে দেখা গেছে, এমন সংকটকালে সোনার দাম ২০% থেকে ৫০% পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালেও সেই সম্ভাবনা অস্বীকার করা যাচ্ছে না। তাঁদের ধারণা, চলতি বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সোনার দাম ২৫% থেকে ৪০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
আর এখানেই সামনে আসছে বাবা ভাঙ্গার রহস্যময় ভবিষ্যদ্বাণী। বিভিন্ন ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ২০২৬ সালের দীপাবলির সময় ভারতে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম পৌঁছতে পারে প্রায় ১,৬২,৫০০ টাকা থেকে ১,৮২,০০০ টাকার মধ্যে। যদি এমনটা সত্যি হয়, তবে তা হবে সোনার বাজারে এক ঐতিহাসিক রেকর্ড।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির পিছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উত্তেজনা, মুদ্রাস্ফীতি, মুদ্রার অস্থিরতা, শুল্কসংকট এবং জ্বালানি বাজারের চাপ। সব মিলিয়ে বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা যত বাড়ছে, ততই সোনা হয়ে উঠছে বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয়।
তবে প্রশ্ন এখনও রয়ে গেছে-এ কি সত্যিই বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণীর প্রতিফলন, নাকি বিশ্ব অর্থনীতির স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি? উত্তর হয়তো মিলবে ২০২৬ সালের দীপাবলির সময়ই।