বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতা যত বাড়ছে, ততই মানুষের মনে ভেসে উঠছে এক অজানা আশঙ্কা... আবার কি পৃথিবী থমকে যাবে? যুদ্ধের উত্তাপ যদি আরও বাড়ে, তবে কি আবারও দেখা দিতে পারে লকডাউনের মতো কঠোর পরিস্থিতি? আর ঠিক এই সময়েই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে রহস্যময় ভবিষ্যদ্বক্তা বাবা ভাঙ্গার নাম।
বুলগেরিয়ার এই অন্ধ ভবিষ্যদ্বক্তাকে ঘিরে বহুদিন ধরেই নানা গল্প প্রচলিত। অনেকেই বিশ্বাস করেন, তিনি নাকি আগেই ভবিষ্যৎ দেখতে পেতেন। তাঁর নামে প্রচলিত বেশ কিছু ভবিষ্যদ্বাণীর মধ্যে রয়েছে বিশ্বযুদ্ধ, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, এমনকি বৈশ্বিক সংকটের ইঙ্গিতও।
কথিত আছে, বাবা ভাঙ্গা একসময় সতর্ক করেছিলেন... বিশ্ব আবার এমন এক অস্থিরতার মুখোমুখি হবে, যা মানুষকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে World War I-এর সময়কার অন্ধকার স্মৃতির দিকে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এক ভয়াবহ সংঘাতের কারণে পৃথিবীর বহু জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে পারে অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক সংকট এবং দৈনন্দিন জীবনের চরম বিপর্যয়।
এই ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে অনেকেই বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মিল খুঁজে পাচ্ছেন। কারণ বিশ্বজুড়ে এখন একাধিক অঞ্চলে যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারেও।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, যদি যুদ্ধ আরও দীর্ঘস্থায়ী হয় বা নতুন সংঘাতে রূপ নেয়, তাহলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। তেল ও গ্যাসের দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে, এমনকি কিছু জায়গায় সরবরাহ কমেও যেতে পারে। এর ফলে শিল্প, পরিবহন এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এই পরিস্থিতি যদি আরও গুরুতর হয়, তাহলে সরকারগুলো জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে লকডাউন বা কঠোর বিধিনিষেধের মতো পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও ভাবতে পারে... এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ভবিষ্যদ্বাণী নাকি কাকতালায়? কী মত বিশেষজ্ঞদের? তবে ইতিহাসবিদ ও বিজ্ঞানীদের বড় অংশই মনে করেন, বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর অধিকাংশই পরিষ্কারভাবে নথিভুক্ত নয় এবং অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলো পরে ব্যাখ্যা করে বর্তমান ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। তাই এগুলোকে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ হিসেবে ধরা ঠিক নয়।
তবুও রহস্যময় ভবিষ্যদ্বাণী মানুষের কৌতূহল সবসময়ই জাগিয়ে রাখে। যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার এই সময় তাই আবারও প্রশ্ন তুলছে.... সত্যিই কি ইতিহাস আবার অন্ধকারের দিকে এগোচ্ছে, নাকি এগুলো শুধুই মানুষের কল্পনা?