বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতার ছায়া এবার সরাসরি আঘাত হানল ভারতের শেয়ার বাজারে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ-উত্তেজনা, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ডলারের দাপটে ভারতের পুঁজিবাজারে নেমেছে বড়সড় ধস। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক অস্থিরতায় কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই প্রায় ৪৪ লক্ষ কোটি টাকা বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে-যা পশ্চিমবঙ্গের বার্ষিক বাজেটের প্রায় ১০-১২ গুণ।
ভারতের শেয়ার বাজারের ইতিহাসে এমন ধসের ঘটনা নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৪ সালের ৪ জুন দিনটি যেমন বাজারের জন্য 'ব্ল্যাক টুয়েসডে' হয়ে উঠেছিল, তেমনই ১৩ মার্চ ২০২৬-কেও অনেকেই এক নতুন অর্থনৈতিক ধাক্কার দিন হিসেবে দেখছেন।
২০২৪ সালের সেই ধসের মূল কারণ ছিল লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা। বুথফেরত সমীক্ষা ও প্রকৃত ফলাফলের বড় ফারাকে লগ্নিকারীদের আস্থা নড়ে যায়। ফলে শেয়ার বাজারে বড়সড় পতন ঘটে। সেদিন BSE Sensex প্রায় ৪,৩৮৯ পয়েন্ট এবং Nifty 50 প্রায় ১,৩৭৯ পয়েন্ট কমে যায়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৩১ লক্ষ কোটি টাকা লোকসান হয়।
২০২৬ সালের মার্চ মাসে আবার নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্ব রাজনীতির উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরান ও ইজরায়েলকে ঘিরে সংঘাতের আশঙ্কা বিশ্ববাজারকে অস্থির করে তুলেছে। এর প্রভাব পড়েছে ভারতীয় বাজারেও। বর্তমানে সেনসেক্স নেমে এসেছে প্রায় ৭৬ হাজার পয়েন্টের নিচে এবং নিফটি প্রায় ২৩,৬৫০ পয়েন্টের নিচে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের (Brent Crude Oil)-এর দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় আমদানিনির্ভর ভারতের অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকার মান কমে প্রায় ৯২ টাকা হওয়ায় বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে দ্রুত মূলধন সরিয়ে নিচ্ছেন।
বাজারের অস্থিরতা মাপার সূচক 'ইন্ডিয়া ভিআইএক্স' (India VIX)-ও প্রায় ২০% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কের ইঙ্গিত দেয়।
তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতিহাস বলছে প্রতিটি বড় ধসের পরেই বাজার আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তাই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ-এই অস্থির সময়ে আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি না করে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা। কারণ অর্থনীতির মৌলিক ভিত শক্ত থাকলে, আজকের ধসই ভবিষ্যতের বড় লাভের সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।