আকাশছোঁয়া সোনার দাম এখন মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে বড় দুশ্চিন্তার কারণ। বিশেষ করে মেয়ের বিয়ে মানেই একগাদা গয়না... এই সামাজিক চাপ সামলানোই কঠিন। তবে সময় বদলেছে, বদলেছে ভাবনাও। গয়না মানেই যে কেবল ভারী সোনা, সেই ধারণা এখন আর চূড়ান্ত সত্য নয়। সামান্য কৌশল আর সচেতন পরিকল্পনাই বাঁচাতে পারে লক্ষ লক্ষ টাকা।
প্রথমেই ভাবুন, ঘরের সিন্দুকে থাকা পুরনো গয়নাগুলো নিয়ে। ঠাকুমা-দিদিমার ভারী ডিজাইন ভেঙে আধুনিক ‘লাইটওয়েট’ নকশায় গড়লে কম সোনাতেই তৈরি হবে একাধিক নতুন গয়না। শুধু মজুরি খরচ করলেই মিলবে নতুন সাজ।
এখন ফ্যাশনে ‘বোল্ড বাট লাইট’। প্রযুক্তির কল্যাণে এমন নকশা তৈরি হচ্ছে যা দেখতে ভারী, কিন্তু ওজনে হালকা। এতে অল্প সোনাতেই কনের সাজ হবে জমকালো।
আভিজাত্য বজায় রাখতে রুপোর গয়নার ওপর সোনার জল বা গোল্ড প্লেটেড গয়না হতে পারে কার্যকর বিকল্প। বিশেষ করে নেকলেস বা সীতাহারে এই পদ্ধতি খরচ অনেকটাই কমায়। একই সঙ্গে কুন্দন বা মিনাকারির গয়নাও এখন ট্রেন্ডে-বেনারসির সঙ্গে এই ঘরানার গয়না কনেকে দেয় রাজকীয় লুক, অথচ সোনার তুলনায় খরচ কম।
পুরো ২২ ক্যারেট সোনার সেট না কিনে ১৮ ক্যারেট সোনায় বসানো ছোট হিরের নাকছাবি বা পেনডেন্ট বেছে নিতে পারেন। আধুনিক ও রুচিশীল... দুই-ই মিলবে বাজেটের মধ্যে।
সব গয়না কিনতেই হবে, এমন বাধ্যবাধকতা নেই। বিয়ের দিনের জন্য নামী দোকান থেকে ভারী গয়না ভাড়া নেওয়ার চল এখন বেশ জনপ্রিয়। এতে কম খরচে মিলবে রাজকীয় সাজ।
এছাড়া মাসিক সঞ্চয় প্রকল্প বা কিস্তির স্কিমে নাম লেখানো বুদ্ধিমানের কাজ। আর অপ্রয়োজনীয় গয়না কমিয়ে কিছু টাকা ‘গোল্ড বন্ড’ বা সঞ্চয় প্রকল্পে বিনিয়োগ করলে মেয়ের ভবিষ্যৎও সুরক্ষিত থাকবে।