একবিংশ শতাব্দীর পৃথিবীতে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। প্রযুক্তির এই ঝড় যেমন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে, তেমনই বাড়াচ্ছে চাকরি হারানোর আতঙ্ক। সাম্প্রতিক সময়ে Google, Amazon এবং Microsoft-এর মতো বিশ্বখ্যাত সংস্থায় হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের খবর সেই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে। আর ঠিক এই সময়েই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন রহস্যময় ভবিষ্যৎদ্রষ্টা Baba Vanga।
বুলগেরিয়ার এই অন্ধ ভবিষ্যৎবক্তা, যিনি ‘বলকানের নস্ট্রাডামাস’ নামে পরিচিত, ১৯৯৬ সালে প্রয়াত হন। তবু তাঁর নাম বারবার ফিরে আসে ৯/১১ হামলা বা বিশ্বরাজনীতির নানা ঘটনার পূর্বাভাস ঘিরে। অনুরাগীদের দাবি, তিনি বহু আগেই সতর্ক করেছিলেন... মানুষের বুদ্ধিমত্তার প্রতিদ্বন্দ্বী এক নতুন শক্তির উত্থান ঘটবে, যা মানুষের জীবনযাত্রা ও কর্মক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণ করবে। যদিও তিনি সরাসরি ‘AI’ শব্দটি বলেননি, কিন্তু তাঁর বক্তব্য আজকের প্রযুক্তি-নির্ভর বাস্তবতার সঙ্গে আশ্চর্যভাবে মিলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
প্রযুক্তি বিশ্বে বর্তমানে যে পুনর্গঠন চলছে, সেখানে মানুষের বদলে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ও এআই ব্যবহারের প্রবণতা স্পষ্ট। OpenAI-এ মাইক্রোসফটের বিপুল বিনিয়োগ কিংবা বিভিন্ন সংস্থার অটোমেশন নীতি সেই ইঙ্গিতই দেয়। ফলে কেবল সাধারণ কর্মী নন, দক্ষ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ও সৃজনশীল পেশাজীবীরাও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায়।
তবে যুক্তিবাদীরা বলছেন, ইতিহাসে প্রতিটি প্রযুক্তিগত বিপ্লবই পুরনো পেশা সরিয়ে নতুন পেশার জন্ম দিয়েছে। শিল্প বিপ্লবের সময়ও একই ভয় দেখা দিয়েছিল। প্রশ্ন হল... এআই কি কেবল সহায়ক শক্তি হবে, নাকি সত্যিই মানুষের বিকল্প হয়ে উঠবে?
বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হোক বা না হোক, একথা পরিষ্কার... কর্মসংস্থানের মানচিত্র দ্রুত বদলাচ্ছে। প্রযুক্তি যদি মানুষের নিয়ন্ত্রণেই থাকে, তবেই ভারসাম্য বজায় থাকবে। না হলে ‘যন্ত্রের শাসন’ নিয়ে তাঁর সতর্কবার্তা আরও বেশি আলোচিত হতে পারে।