শুক্রবারের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল কলকাতা। উৎস ছিল বাংলাদেশ... কিন্তু কম্পনের রেশ কাটতেই সামনে এল আরও বড় উদ্বেগের খবর। নতুন গবেষণা বলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা যতটা বাড়ছে, তার চেয়েও দ্রুত বসে যাচ্ছে গঙ্গা–ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ অঞ্চল, যার মধ্যে রয়েছে কলকাতাও।
বিশ্বের ৪০টি বদ্বীপ অঞ্চলের উপর হওয়া এই সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, গঙ্গা–ব্রহ্মপুত্র, ব্রাহ্মণী ও মহানদী বদ্বীপ বিশ্বের ১৯টি অতি-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের অন্যতম। গঙ্গা–ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের ৯০ শতাংশেরও বেশি এলাকায় ভূমি অবনমন বা ‘ল্যান্ড সাবসিডেন্স’ ঘটছে। কলকাতার ক্ষেত্রে এই অবনমনের হার আঞ্চলিক গড়ের সমান, কোথাও কোথাও তার চেয়েও বেশি।
কেন এমন হচ্ছে? প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলন। দীর্ঘদিন ধরে পানীয় জল ও শিল্পের প্রয়োজনে মাটির নীচ থেকে বিপুল পরিমাণ জল তোলা হয়েছে। তার ফলেই মাটি আলগা হয়ে ধীরে ধীরে বসে যাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভারী নির্মাণ, কংক্রিটের চাপ এবং প্রাকৃতিক পলি জমার ঘাটতি।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী Nature-এ। সেখানে ২০১৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত Sentinel-1 স্যাটেলাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, বিশ্বের বহু বদ্বীপ এলাকায় প্রতিবছর ৩ মিলিমিটার বা তারও বেশি হারে ভূমি নীচে নামছে।
কলকাতার পূর্বাংশে আগে থেকেই অবনমন লক্ষ্য করা গিয়েছিল। কিন্তু নতুন উদ্বেগ- হুগলি নদীর পশ্চিম পাড়েও জমি বসার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এর ফলে বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে, উপকূলে লবণাক্ত জল ঢুকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে পরিকাঠামোও।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই ভূগর্ভস্থ জল ব্যবস্থাপনায় কড়া নজরদারি, বিকল্প জলসূত্র এবং স্থিতিস্থাপক পরিকাঠামো গড়ে তোলাই একমাত্র পথ। নইলে ভূমিকম্পের কম্পন থেমে গেলেও, কলকাতার নীচের মাটি কিন্তু চুপচাপ বসতেই থাকবে।