বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং যুদ্ধের (US-Iran war) আবহে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হল সোনা ও রূপোর দাম। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির টানাপোড়েনের কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে বাজারে দ্রুত বাড়ছে সোনা ও রূপোর (Gold and Silver Rate Today) চাহিদা, আর তারই প্রভাব পড়ছে দামের ওপর।
১১ মার্চ বুধবার সকালে ভারতের পণ্য বাজার Multi Commodity Exchange of India (MCX)-এ এপ্রিল ডেলিভারির সোনা ফিউচার সামান্য কমে প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ১,৬২,৯০০ টাকায় লেনদেন হয়েছে। অন্যদিকে মে মাসের রূপোর ফিউচার প্রায় ০.৬৭ শতাংশ কমে প্রতি কেজিতে প্রায় ২,৭৬,০০০ টাকার কাছাকাছি নেমে আসে। তবে সার্বিকভাবে বাজারে দাম এখনও অত্যন্ত উঁচু স্তরেই রয়েছে।
বুলিয়ন বাজারের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ১,৬৩,৪৪০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রায় ১,৪৯,৮২০ টাকা। রূপোর দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ২,৭৬,০৮০ টাকা। শহরভেদেও দামের সামান্য পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। কলকাতা, মুম্বাই ও বেঙ্গালুরুতে ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রায় ১,৪৮,৮৬০ টাকা, আর ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রায় ১,৬২,৩৯০ টাকা প্রতি ১০ গ্রাম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত দুই দশকে সোনার দাম প্রায় ১৫০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে- যা সত্যিই বিস্ময়কর। এমনকি চলতি বছরেও সোনার দাম গত বছরের তুলনায় প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার রেকর্ড গড়েছে। এই পরিস্থিতির পিছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, মুদ্রাস্ফীতি এবং নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা।
যুদ্ধ বা বৈশ্বিক সংকটের সময়ে সোনাকে বরাবরই নিরাপদ সম্পদ হিসেবে দেখা হয়। তাই বাজারে যখন অনিশ্চয়তা বাড়ে, তখন বিনিয়োগকারীরা সোনা ও রূপোর দিকে ঝুঁকে পড়েন। ফলে দামও দ্রুত বাড়তে শুরু করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সোনা ও রূপোর বাজার আরও কিছুদিন অস্থির থাকতে পারে। তাই বিনিয়োগ করার আগে বাজারের গতিবিধি ভালোভাবে বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।