এক সময়ে প্রেম মানেই ছিল ধীরে ধীরে কাছে আসা, একে অপরকে বোঝা, ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখা। কিন্তু জেন জি-র প্রেমের অভিধানে সেই সংজ্ঞা বদলে যাচ্ছে দ্রুত। এখন প্রেম মানে এক জন নয়-সাতদিনে সাত জন। এই নতুন ট্রেন্ডের নাম ‘রস্টার ডেটিং’। আজ কফি ডেট, কাল লং ড্রাইভ, পরশু ক্যান্ডেল লাইট ডিনার... সব আলাদা মানুষের সঙ্গে। কিন্তু কারও সঙ্গেই স্থায়ী হওয়ার প্রতিশ্রুতি নেই।
রস্টার ডেটিং মূলত ‘ট্রায়াল অ্যান্ড এরর’ পদ্ধতির সম্পর্ক। কার সঙ্গে ভালো লাগছে, কার সঙ্গে মানসিক বোঝাপড়া হচ্ছে... তা বুঝে নেওয়ার এক ধরনের পরীক্ষামূলক পর্ব। এখানে কেউই শুরুতেই সিরিয়াস নন। ভালো না লাগলে সম্পর্ক ভেঙে বেরিয়ে আসার স্বাধীনতা থাকে দু’পক্ষেরই। জেন জি-র কাছে এটিই সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।
এই প্রবণতা বাড়ার নেপথ্যে সমাজ বদলের বড় ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে নারীরা এখন আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী, কেরিয়ার সচেতন এবং নিজের পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে স্পষ্ট। এক সময় সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার দায় অনেকটাই নারীদের ঘাড়ে চাপানো হত। আজ সেই জায়গায় তাঁরা নিজের মতো করে সঙ্গী বেছে নেওয়ার অধিকার চাইছেন। রস্টার ডেটিং সেই স্বাধীনতারই এক রূপ।
আরও একটি বড় কারণ হল সম্পর্কের প্রতি আস্থার ঘাটতি। চারপাশে বিচ্ছেদ, প্রতারণা আর টক্সিক সম্পর্কের গল্প দেখে অনেকেই স্থায়ী সম্পর্কে জড়াতে ভয় পাচ্ছেন। তাই আগে বুঝে নেওয়া, আগে যাচাই করে নেওয়াই তাঁদের কাছে বেশি নিরাপদ মনে হচ্ছে।
এই ধরনের ডেটিং কি সত্যিই স্বাস্থ্যকর? মনোবিদদের একাংশ বলছেন, সীমা না জানলে এতে আবেগগত ক্লান্তি, একাকিত্ব আর ‘কমিটমেন্ট ফোবিয়া’ তৈরি হতে পারে। আবার অন্য পক্ষের মতে, ভুল মানুষের সঙ্গে তাড়াহুড়ো করে জড়িয়ে পড়ার চেয়ে সচেতন ভাবে পছন্দ করা অনেক ভালো।