সোনা মানেই ঐতিহ্য, বিনিয়োগ এবং নিরাপদ সম্পদের প্রতীক। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে পরীক্ষাগারেও সোনা তৈরি করা সম্ভব। প্রযুক্তির সাহায্যে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরমাণু জুড়ে এই সোনা তৈরি করা হয়, যা দেখতে এবং গঠনে প্রায় একই রকম। তবে এই নতুন ধারণা ভবিষ্যতে সোনার বাজারে কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।
বিজ্ঞানীদের মতে, ল্যাবরেটরিতে তৈরি সোনা তৈরি করতে বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি পরমাণুকে নির্দিষ্টভাবে জুড়ে তৈরি করা হয় এই ধাতু। অনেক ক্ষেত্রে এর দাম খনি থেকে পাওয়া সোনার তুলনায় কিছুটা কম হতে পারে। তবে খাঁটিত্বের দিক থেকে অনেক সময় এটি প্রাকৃতিক সোনার তুলনায় কিছুটা কম মানের হতে পারে।
সাধারণত বাজারে যে সোনা পাওয়া যায় তা খনি থেকে সংগ্রহ করা হয়। সেই কারণে এখনও বিশ্ববাজারে মূলত খনি থেকে পাওয়া সোনারই চাহিদা বেশি। পরীক্ষাগারে তৈরি সোনা এখনও বাণিজ্যিকভাবে খুব বেশি ব্যবহার শুরু হয়নি।
তবে খনি থেকে পাওয়া সোনা হোক বা ল্যাবে তৈরি সোনা- উভয় ক্ষেত্রেই ২৪ ক্যারাট মানে প্রায় ৯৯.৯ শতাংশ বিশুদ্ধ সোনা ধরা হয়। এছাড়াও ১৮ ক্যারাট এবং ১৪ ক্যারাট সোনাও বাজারে জনপ্রিয়।
ভারতের মতো দেশে সোনার প্রতি মানুষের আবেগ ও বিনিয়োগের আগ্রহ অনেক বেশি। তাই সোনার দাম বাড়লেও অনেকেই এটিকে দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের অন্যতম নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে দেখেন। বর্তমানে সোনার দাম বিশ্ববাজারে উচ্চস্তরে থাকায় যাঁদের কাছে সোনা রয়েছে, তাঁরা নিজেদের আর্থিকভাবে নিরাপদ মনে করেন।
ভবিষ্যতে ল্যাব-তৈরি সোনা বাজারে কতটা জায়গা করে নেবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে ক্রেতাদের পছন্দ ও আস্থার উপর। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট- সোনা নিয়ে মানুষের আগ্রহ কখনও কমবে না, বরং প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এর বাজার আরও নতুন রূপ নিতে পারে।