বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ চড়তেই তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সোনার বাজারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং ইজরায়েল-এর মধ্যে বাড়তে থাকা সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনাকে আবারও 'সেফ হ্যাভেন' বা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। তবে আশ্চর্যের বিষয়, যুদ্ধের আবহ থাকা সত্ত্বেও চলতি সপ্তাহের শেষভাগে ভারতীয় বাজারে সোনার দামে সাময়িক সংশোধন দেখা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের সম্ভাবনায় সাধারণত সোনার দাম বাড়ে। কিন্তু বাজারে ওঠানামা এবং বিনিয়োগকারীদের লাভ তুলে নেওয়ার প্রবণতার কারণে সাম্প্রতিক কয়েক দিনে দামে কিছুটা পতন হয়েছে। ২ থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত টানা কয়েক দিন ধরে সোনার দাম কমেছে, যা মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর।
আজকের বাজারদর অনুযায়ী কলকাতা-এ ১০ গ্রাম ২২ ক্যারেট সোনার দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,৫২,৪০০ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৮০০ টাকা কম। অন্যদিকে ২৪ ক্যারেট সোনা ১০ গ্রামে প্রায় ১,৬০,৩৫০ টাকা।
যদিও সোনার দামে সামান্য পতন হয়েছে, কিন্তু রুপোর বাজার এখনও চড়া। বর্তমানে কলকাতায় ১০০ গ্রাম রুপোর দাম প্রায় ২৬,৫৯০ টাকা, আর ১ কেজি রুপো কিনতে খরচ করতে হচ্ছে প্রায় ২,৬৫,৯০০ টাকা। শিল্পক্ষেত্রে চাহিদা বাড়ায় রুপোর দামও দ্রুত বাড়ছে।
উচ্চ দামের কারণে দেশের বড় স্বর্ণবাজারগুলোতেও প্রভাব পড়েছে। কারোল বাগ বা বউবাজারের মতো জায়গায় নতুন গয়না কেনার হার কমে গিয়েছে। বিয়ের মরসুমেও অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার নতুন গয়না কেনার পরিকল্পনা বাতিল করছেন বা পুরনো সোনা বদলে কাজ চালানোর চেষ্টা করছেন।
তবে বিনিয়োগকারীদের একাংশ এই উচ্চ দামের সুযোগ নিয়ে সোনা বিক্রি করে মুনাফা তুলছেন। পাশাপাশি বর্তমানে ডিজিটাল গোল্ড ও গোল্ড ইটিএফ-এ বিনিয়োগের প্রবণতাও বাড়ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সোনার দামের এই সাময়িক পতন আসলে বাজারের একটি ‘সংশোধন’ মাত্র। যদি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমে না, তবে আগামী কয়েক সপ্তাহে সোনার দাম আবারও নতুন রেকর্ড ছুঁতে পারে।