'যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখ তাই, পাইলেও পাইতে পারো অমূল্য রতন' ড্রয়ারের মধ্যে এই নোট থাকলেই কেল্লাফতে! মিলবে লাখ লাখ টাকা... বিষয়টা সত্যি কি মিথ্যে তা নিয়ে রয়েছে বিস্তর জল্পনা... সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে মাঝেমধ্যেই এমন কিছু খবর ভাইরাল হয়, যা সাধারণ মানুষকে রাতারাতি ধনী হওয়ার স্বপ্ন দেখায়। সম্প্রতি তেমনই এক দাবি ঘুরে বেড়াচ্ছে- যদি আপনার কাছে বিশেষ ধরনের পুরনো ₹২০ টাকার নোট থাকে, তবে সেটি বিক্রি করে নাকি পাওয়া যেতে পারে প্রায় ৪ লাখ টাকা! কিন্তু এই দাবির পেছনে কতটা সত্যতা রয়েছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
ভাইরাল পোস্টগুলিতে বলা হচ্ছে, যেসব ২০ টাকার নোটের সিরিয়াল নম্বরের শেষে '786' থাকে অথবা যেগুলোতে কোনো বিশেষ প্রিন্টিং এরর রয়েছে, সেগুলোর নাকি সংগ্রাহকদের কাছে প্রচুর চাহিদা। বিশেষ করে পুরনো গোলাপি রঙের ২০ টাকার নোট, যেখানে সূর্য মন্দিরের চাকা বা বিশেষ চিহ্ন রয়েছে- সেই নোটকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে এই আলোচনার ঝড়।
তবে এই বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে Reserve Bank of India। আরবিআই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পুরনো নোট বা কয়েন কেনাবেচার সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের কোনো সম্পর্ক নেই। এমনকি এই ধরনের লেনদেনের জন্য তারা কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে অনুমতি দেয়নি।
আরবিআইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু অসাধু চক্র আরবিআইয়ের নাম ও লোগো ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। তারা ‘রেজিস্ট্রেশন ফি’, ‘ভেরিফিকেশন চার্জ’ বা ‘ট্যাক্স’-এর নামে টাকা দাবি করে। একবার টাকা পেয়ে গেলে প্রতারকেরা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
এটা ঠিক যে মুদ্রাতত্ত্ব বা Numismatics–এর জগতে পুরনো ও বিরল মুদ্রার আলাদা বাজার রয়েছে। সংগ্রাহকেরা নোটের বয়স, অবস্থা, সিরিয়াল নম্বর এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব দেখে দাম নির্ধারণ করেন। কখনও কখনও কিছু বিরল নোটের দাম বেশি হতে পারে, তবে ৪ লাখ টাকার মতো অঙ্ক অত্যন্ত বিরল।
অনেকেই OLX, IndiaMART বা CoinBazar-এর মতো প্ল্যাটফর্মে এই ধরনের বিজ্ঞাপন দেখেন। কিন্তু সেখানে লেখা দাম বাস্তবে সেই দামে বিক্রি হবে- এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সোশ্যাল মিডিয়ার গুজবে কান না দিয়ে সতর্ক থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। পুরনো নোট সংগ্রহ করা একটি আকর্ষণীয় শখ হতে পারে, কিন্তু এটিকে রাতারাতি ধনী হওয়ার উপায় হিসেবে ভাবা বিপজ্জনক।