বিবাহিত নারীর সাজে সিঁদুর শুধু প্রসাধন নয়, এটি ভালোবাসা, সম্পর্ক ও ঐতিহ্যের প্রতীক। কিন্তু আজকাল অনেকেই অভিযোগ করছেন- নিয়মিত সিঁদুর ব্যবহারের ফলে সিঁথির অংশে চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে, এমনকি চুল পড়ার সমস্যাও বাড়ছে। এর পিছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে বাজারে বিক্রি হওয়া অনেক সিঁদুরের ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারচলতি অনেক সিঁদুরে সিসা, পারদ ও বিভিন্ন সিন্থেটিক রং মেশানো থাকে। এই রাসায়নিকগুলো স্ক্যাল্পের কোষের ক্ষতি করে, যার ফলে ত্বকে র্যাশ, চুলকানি, জ্বালা বা অতিরিক্ত চুল পড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে স্ক্যাল্পে সংক্রমণের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
তবে এর জন্য সিঁদুর পরা বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। সামান্য সময় ও সহজ উপকরণ ব্যবহার করে বাড়িতেই তৈরি করা যায় নিরাপদ ভেষজ সিঁদুর।
ঘরোয়া পদ্ধতিতে হার্বাল সিঁদুর তৈরির উপায়...
এই সিঁদুর তৈরির জন্য প্রয়োজন মাত্র তিনটি উপকরণ- হলুদ গুঁড়ো, স্লেকড লাইম (চুন) এবং লেবুর রস।
প্রথম ধাপ:
দুই টেবিল চামচ হলুদ গুঁড়োর সঙ্গে দুই টেবিল চামচ স্লেকড লাইম পেস্ট ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি একটি অন্ধকার জায়গায় প্রায় পাঁচ দিন রেখে দিন। ধীরে ধীরে এটি শুকিয়ে উজ্জ্বল কমলা রং ধারণ করবে।
রঙের পরিবর্তন:
যদি গাঢ় লাল রং চান, তবে এতে আধ চামচ পাতিলেবুর রস মিশিয়ে দিন। লেবুর অ্যাসিডিক বিক্রিয়ার ফলে মিশ্রণটি লালচে রঙে পরিণত হবে। এরপর আরও ৩–৪ দিন অন্ধকার স্থানে শুকোতে দিন।
সংরক্ষণ:
মিশ্রণটি পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে একটি এয়ারটাইট কৌটোয় রেখে দিন। এই হার্বাল সিঁদুর সাধারণত ২-৩ সপ্তাহ পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়।
যদিও উপকরণগুলো প্রাকৃতিক, তবুও ব্যবহারের আগে হাতে সামান্য লাগিয়ে প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া উচিত। এছাড়া সিঁদুর পরার আগে সিঁথিতে একটু নারকেল তেল বা ময়েশ্চারাইজার লাগালে স্ক্যাল্প আরও সুরক্ষিত থাকে। রাসায়নিকের ঝুঁকি এড়িয়ে ঘরোয়া উপায়ে তৈরি এই ভেষজ সিঁদুর ব্যবহার করলে সিঁথির সৌন্দর্য যেমন বজায় থাকবে, তেমনই চুলও থাকবে সুস্থ ও মজবুত।