আধুনিক সম্পর্কের জগতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন শব্দের জন্ম হচ্ছে। কখনও ‘ঘোস্টিং’, কখনও ‘বেঞ্চিং’। কিন্তু সম্প্রতি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে নতুন আচরণ নিয়ে আলোচনা বাড়ছে, তার নাম ‘আইসিং’। নামটি শুনতে যতটা মিষ্টি, বাস্তবে ততটাই জটিল এবং কষ্টদায়ক।
‘আইসিং’ বলতে বোঝায় এমন একটি পরিস্থিতি, যখন সম্পর্কে থাকা সত্ত্বেও সঙ্গী আচমকা শীতল হয়ে পড়েন। প্রথমদিকে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও হঠাৎই তাঁর আচরণে বদল আসে। তিনি পুরোপুরি সম্পর্ক ছেড়ে যান না, আবার আগের মতো ঘনিষ্ঠতাও দেখান না। যেন সম্পর্কের ওপর অদৃশ্য এক বরফের আস্তরণ পড়ে যায়-উষ্ণতা থাকে না, থাকে শুধু দূরত্ব।
অনেকেই এই আচরণকে ‘ঘোস্টিং’-এর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। কিন্তু দুটির মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। ঘোস্টিংয়ে সঙ্গী হঠাৎ করেই সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। আর আইসিংয়ের ক্ষেত্রে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয় না। মাঝে মাঝে সংক্ষিপ্ত বা দায়সারা উত্তর দিয়ে সম্পর্কটিকে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ফলে অন্য পক্ষের মনে তৈরি হয় বিভ্রান্তি, অনিশ্চয়তা এবং মানসিক চাপ।
মনোবিদদের মতে, অনেকেই সম্পর্কের দায়িত্ব বা প্রতিশ্রুতির ভয় থেকে এই আচরণ করেন। সরাসরি বিচ্ছেদের কথা বলার সাহস না থাকায় তারা ধীরে ধীরে দূরত্ব তৈরি করেন। আবার অনেক সময় দেখা যায়, সঙ্গী অন্য কারও প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছেন। তখন পুরনো সম্পর্ক থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসার জন্য আইসিংকে ব্যবহার করা হয়।
যিনি এই আচরণের শিকার হন, তাঁর মানসিক অবস্থা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। ক্রমাগত উপেক্ষা এবং অস্পষ্টতার কারণে আত্মবিশ্বাস কমে যায়, তৈরি হয় উদ্বেগ ও হতাশা। সবচেয়ে বড় সমস্যা হল-সম্পর্কটি পুরোপুরি শেষ হয়েছে কি না, সেই স্পষ্টতা পাওয়া যায় না।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যদি মনে হয় আপনি আইসিং-এর শিকার, তাহলে চুপ করে না থেকে সরাসরি কথা বলা জরুরি। সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে স্পষ্ট জবাব চাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর যদি তাতেও পরিস্থিতি না বদলায়, তবে নিজের মানসিক শান্তি এবং আত্মসম্মানের কথা ভেবে সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসাই হতে পারে সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত।