বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বা পরকীয়া নিয়ে সমাজে নানা আলোচনা থাকলেও সাম্প্রতিক কয়েকটি সমীক্ষা এই বিষয়ে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। গবেষণার দাবি, আধুনিক সম্পর্কের বাস্তবতায় অনেক ক্ষেত্রে পরকীয়ার প্রবণতায় নারীরাই এগিয়ে- আর এর পিছনে রয়েছে মানসিক অসন্তোষ, একঘেয়েমি এবং ডিজিটাল যুগের নতুন সামাজিক যোগাযোগ।
২০১৯ সালে একটি এক্সট্রা-ম্যারিটাল ডেটিং অ্যাপের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, ভারতে ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৭ জন নারী স্বামীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন বলে জানিয়েছেন। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া নারীদের একটি বড় অংশের বক্তব্য ছিল, তাঁদের স্বামীরা ঘরোয়া কাজ বা সম্পর্কের দায়িত্বে যথেষ্ট অংশ নেন না। ফলে দাম্পত্য সম্পর্কে অসন্তোষ তৈরি হয়। প্রায় ৭৭ শতাংশ নারী জানান, দীর্ঘদিনের সম্পর্ক একঘেয়ে হয়ে যাওয়াই পরকীয়ার প্রধান কারণ।
এর পাশাপাশি ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় একটি সমাজসেবী সংস্থার উদ্যোগে পরিচালিত আরেকটি সমীক্ষায় দেখা যায়, অনেক নারীই নিজের অনুভূতিকে দমিয়ে রাখতে পারেন না। কখন কার প্রতি আকর্ষণ তৈরি হবে বা কার সঙ্গে সময় কাটাতে ভালো লাগবে- তা আগে থেকে বোঝা যায় না। এই মানসিক টানাপোড়েন থেকেই অনেক সময় তৈরি হয় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক।
সমীক্ষায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ উঠে এসেছে- দীর্ঘদিনের সম্পর্কে একঘেয়েমি। বহু বছর একই মানুষের সঙ্গে থাকার ফলে সম্পর্কের উত্তেজনা কমে যায় বলে অনেকেই মনে করেন। সেই অনুভূতিকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতেই কেউ কেউ অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।
ডিজিটাল যুগে এই প্রবণতাকে আরও উসকে দিচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া ও ডেটিং অ্যাপ। স্মার্টফোনে সহজেই নতুন মানুষের সঙ্গে আলাপ হচ্ছে, শুরু হচ্ছে ফ্লার্টিং বা বন্ধুত্ব। ধীরে ধীরে সেই সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতায় রূপ নিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা এই প্রবণতাকে অনেক সময় 'মাইক্রো চিটিং' বলে উল্লেখ করেন।
মাইক্রো চিটিং বলতে বোঝায়- কোনও তৃতীয় ব্যক্তির সঙ্গে অতিরিক্ত মানসিক ঘনিষ্ঠতা তৈরি হওয়া, তার সঙ্গে ব্যক্তিগত অনুভূতি বা জীবনের নানা বিষয় ভাগ করে নেওয়া। শুরুতে এটি ছোটখাটো মানসিক সম্পর্ক মনে হলেও, অনেক ক্ষেত্রে তা পরে গভীর সম্পর্ক বা শারীরিক সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা শুধু নারী নয়, পুরুষ- উভয়ের ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে। আধুনিক জীবনযাত্রা, কাজের চাপ, ডিজিটাল যোগাযোগ এবং সম্পর্কের মানসিক দূরত্ব- সব মিলিয়েই বদলে যাচ্ছে আজকের দাম্পত্য সম্পর্কের চিত্র।