চকোলেট মানেই কি শুধু মিষ্টি আর তেতোর লড়াই? একেবারেই নয়, বলছেন পেশাদার চকোলেট টেস্টাররা। কফি, ওয়াইন কিংবা চিজ়ের মতোই এখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে চকোলেট টেস্টিং। শুধু শখ নয়, এটি এখন একটি পেশাদার দক্ষতা- যার জন্য রয়েছে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেট। ভারতে একজন দক্ষ চকোলেট টেস্টার মাসে ৩০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি ভালো চকোলেটের স্বাদ বুঝতে শুধু জিভ নয়, ব্যবহার করতে হয় সমস্ত ইন্দ্রিয়। চকোলেট মুখে গলে যাওয়ার পর তার টেক্সচার, গন্ধ, তেতো-মিষ্টির ভারসাম্য, এমনকি কোকো বিনের গুণমানও বোঝা যায়। গবেষণা বলছে, একটি চকোলেটের মধ্যে ১,৫০০-রও বেশি ফ্লেভার কম্পোনেন্ট থাকতে পারে।
লন্ডনের 'ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব চকলেট অ্যান্ড কোকো টেস্টিং' বা IICCT-তে এই বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এখানে লেভেলভিত্তিক কোর্সে শেখানো হয় বিভিন্ন উৎসের চকোলেটের স্বাদ বিশ্লেষণ, ব্লাইন্ড টেস্টিং এবং কোকো উৎপাদনের প্রভাব বোঝার কৌশল। ভারতের বহু পেশাদার চকোলেট টেস্টার এই প্রতিষ্ঠান থেকেই প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
চেন্নাইয়ের নীতিন চোরডিয়া, যিনি ভারতের প্রথম সারির চকোলেট টেস্টারদের একজন, এই প্রশিক্ষণের পর গড়ে তুলেছেন নিজের পরিবেশবান্ধব চকোলেট ব্র্যান্ড। তাঁর মতে, হাজার হাজার চকোলেটের স্বাদ নেওয়ার অভিজ্ঞতাই একজন টেস্টারকে দক্ষ করে তোলে।
তবে এই পেশা যতটা মজার, ততটাই কঠিন। টেস্টারদের ডায়েট, ওজন এবং স্বাদগ্রহণ ক্ষমতা সবসময় নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। টেস্টিংয়ের আগে তীব্র গন্ধযুক্ত খাবার, পারফিউম এমনকি অতিরিক্ত মশলাদার খাবারও এড়িয়ে চলেন তাঁরা। কারণ, একটি চকোলেটের ক্ষুদ্রতম ত্রুটিও তাঁদের ধরতে হয় নিখুঁতভাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন ভালো চকোলেট টেস্টার সেই ব্যক্তি, যিনি চকোলেট উপভোগ করার পাশাপাশি তার লুকিয়ে থাকা খুঁতও অনায়াসে ধরে ফেলতে পারেন।