পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হলেও পরিস্থিতি এখনও অস্থির। যুদ্ধের উত্তাপ পুরোপুরি না কমলেও তার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে, বিশেষ করে সোনার বাজারে। গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম হঠাৎই বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু তার মাত্র একদিন পরেই, বৃহস্পতিবার অর্থাৎ লক্ষ্মীবারে ভারতের বাজারে সোনার দামে বড়সড় পতন দেখা গেল। এই খবর মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য নিঃসন্দেহে স্বস্তির।
৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ভারতের বিভিন্ন শহরে ২২ ও ২৪ ক্যারাট সোনার দামে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত কমতি দেখা গেছে। কলকাতায় ১০ গ্রাম ২২ ক্যারাট সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১,৩৮,৮৫০ টাকা, আর ২৪ ক্যারাট সোনার দাম ১,৫১,৪৮০ টাকা। দিল্লিতে ২২ ক্যারাট সোনার দাম ১,৩৯,০০০ টাকা এবং ২৪ ক্যারাট সোনার দাম ১,৫১,৬৩০ টাকা। মুম্বই, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই ও হায়দরাবাদের মতো বড় শহরেও প্রায় একই দামে সোনা বিক্রি হচ্ছে।
আহমেদাবাদ ও পাটনার মতো শহরেও ২২ ক্যারাট সোনার দাম প্রায় ১,৩৮,৯০০ টাকা এবং ২৪ ক্যারাট সোনার দাম ১,৫১,৫৩০ টাকার আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। ফলে দেশের প্রায় সব বড় শহরেই সোনার দামে এই স্বস্তি বজায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দামের ওঠানামার পেছনে রয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক কারণ। ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা বাজারে প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা এবং মার্কিন ডলারের শক্তি কমে যাওয়াও সোনার বাজারকে নাড়া দিয়েছে।
এদিকে ভারতের অর্থনীতিতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) রেপো রেট অপরিবর্তিত রেখে ৫.২৫ শতাংশে স্থির রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্র জানিয়েছেন, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এই হার অপরিবর্তিত রয়েছে।
অন্যদিকে লেবাননে ইজরায়েলের নতুন হামলার জেরে আবারও হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে পড়েছে। এই প্রণালী বন্ধ হওয়ায় তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। কিন্তু তার উল্টো প্রভাব পড়েছে সোনার বাজারে, ফলে সোনার দাম কিছুটা কমেছে।