ডিজিটাল দুনিয়ায় ক্রমশ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তি। আর সেই বিতর্কের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে এবার ঝড়ের মুখে জনপ্রিয় গেমার ও ইনফ্লুয়েন্সার পায়েল ধারে, যিনি ‘পায়েল গেমিং’ নামে অধিক পরিচিত। একটি ১৯ মিনিটের ব্যক্তিগত ভিডিয়ো ইন্টারনেটে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই সকলে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে-ভিডিয়োর মেয়েটি কি সত্যিই পায়েল?
পায়েল গেমিং বর্তমানে ভারতের গেমিং কমিউনিটিতে এক জনপ্রিয় নাম। মধ্যপ্রদেশের ছোট গ্রাম উমরানালা থেকে উঠে এসে তিনি আজ ইউটিউবে লক্ষ লক্ষ সাবস্ক্রাইবারের প্রিয় মুখ। গেমিং স্ট্রিমিংয়ের পাশাপাশি ইনস্টাগ্রামেও তাঁর বিপুল ফলোয়ার রয়েছে।
কিন্তু ভাইরাল সেই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় নেটদুনিয়ার তুমুল চর্চা। সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ ভিডিওকে সত্য বলে দাবি করেন, আবার অনেকেই তা ভুয়ো বলেই মনে করেন। পায়েলের অনুরাগীরা স্পষ্টভাবে বলেন, এটি ডিপফেক ভিডিয়ো। ভুয়ো প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে অপমান করার চেষ্টা করা হয়েছে।
বিতর্কের মাঝেই পায়েল একটি বিবৃতি দেন। তাঁর কথায়, 'এই ভিডিয়োর সঙ্গে আমার কোনও যোগ নেই। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, আমাকে টার্গেট করার জন্য বানানো।' তিনি আরও জানান, এই অপমানজনক ঘটনার ফলে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলেও, সত্য সামনে আনার দায়িত্ববোধ থেকেই মুখ খুলেছেন।
ঘটনার পর নতুন করে সামনে এলো ডিপফেক প্রযুক্তির ঝুঁকি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি এই ধরনের ভিডিও যেকোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনে ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে জরুরি আইনি ব্যবস্থা ও সচেতনতা বৃদ্ধি।
এ ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ট্রেন্ড করে #WeStandWithPayal। অনুরাগীরা দাবি তুলেছেন, ভিডিয়ো যে সমস্ত অপরাধীরা ছড়াচ্ছে তাদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।
এই ঘটনা যেন সতর্কবার্তা-ডিজিটাল স্পেস যত বিস্তৃত হচ্ছে, ততই প্রয়োজন ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সাইবার সুরক্ষা সম্পর্কে চিন্তা। নয়তো প্রযুক্তির হাত ধরেই আরও নিরপরাধ মানুষও ছড়িয়ে পড়তে পারে অপমান ও প্রতারণার শিকার হয়ে।