একই ঘর, একই বিছানা-তবু দূরত্ব বাড়ছে! বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ক্রমশ বেড়ে চলেছে ‘যৌনতাহীন দাম্পত্য’। এর প্রভাব পড়ছে সম্পর্কের গভীরতায়, এমনকি সন্তানধারণের গড় হারেও। নতুন বিবাহিত জীবনের উচ্ছ্বাস ধীরে ধীরে কেন মিইয়ে যাচ্ছে? কারণ একাধিক।
প্রথমত, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা যৌনজীবনের মূল ভিত্তি। কাজের চাপ, অনিদ্রা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা কিংবা দীর্ঘদিনের অসুস্থতা যৌন ইচ্ছাকে কমিয়ে দেয়। এই সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, প্রত্যেক মানুষের যৌনচাহিদা এক নয়। এক জন বেশি আগ্রহী, অন্য জন তুলনায় কম-এই অমিল থেকেই জন্ম নেয় হতাশা। ধীরে ধীরে তা দূরত্বে রূপ নেয়।
তৃতীয়ত, সন্তান জন্মের পর বিশেষত নারীদের জীবনে আসে বড় পরিবর্তন। শারীরিক ক্লান্তি, হরমোনগত পরিবর্তন ও সন্তানের দায়িত্ব যৌন আগ্রহ কমিয়ে দেয়। ফলে এক বিছানায় থেকেও কাছাকাছি আসা হয় না।
চতুর্থত, মানসিক চাপ আজকের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পেশাগত প্রতিযোগিতা, আর্থিক দুশ্চিন্তা ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা দাম্পত্যের উষ্ণতাকে শুষে নেয়।
পঞ্চমত, না বলা অভিমান ও জমে থাকা ক্ষোভ সম্পর্কের ভিত নড়িয়ে দেয়। কথা না বললে সমস্যা পাহাড় হয়, আর তার প্রভাব পড়ে শারীরিক ঘনিষ্ঠতায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যৌনতা শুধু শারীরিক মিলন নয়-এটি আবেগের সেতু। উষ্ণতা ফিরিয়ে আনতে খোলামেলা আলোচনা, পারস্পরিক বোঝাপড়া, একসঙ্গে সময় কাটানো ও প্রয়োজনে কাউন্সেলিং অত্যন্ত জরুরি। মনে রাখবেন, সম্পর্ক গড়তে সময় লাগে, ভাঙতে লাগে মুহূর্ত। তাই দূরত্ব নয়, বেছে নিন সংলাপ। তাহলেই দাম্পত্য আবার হয়ে উঠবে রঙিন, প্রাণবন্ত ও গভীর।