ভারতের বুলিয়ন বাজারে এই মুহূর্তে কার্যত আগুন! মঙ্গলবার ফের রুপোর দামে তৈরি হল নতুন রেকর্ড। একের পর এক সর্বোচ্চ স্তর ছুঁয়ে ফেলায় বিনিয়োগকারী থেকে সাধারণ মানুষ... সবারই কপালে চিন্তার ভাঁজ। তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, এই ঊর্ধ্বগতি এখনই থামার কোনও লক্ষণ নেই।
আজ দিল্লিতে ১ কিলোগ্রাম রুপোর দাম পৌঁছেছে ৩,৬০,১০০ টাকা। দক্ষিণ ভারতের বাজারে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত- চেন্নাই, হায়দরাবাদ ও কেরালায় রুপোর দর ৩,৭৫,১০০ টাকা প্রতি কেজি। কলকাতা, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, পুনে ও আহমেদাবাদেও রুপোর দাম ৩.৬ লক্ষ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারেও রুপোর দাম ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমানে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স রুপোর দর প্রায় ১১৩.৪৬ ডলার- যা ইতিহাসে নজিরবিহীন।
কেন এত দাম বাড়ছে? বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া কারণ একসঙ্গে কাজ করছে-
ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠক (২৭–২৮ জানুয়ারি): সুদের হার কমার সম্ভাবনা রয়েছে। সুদ কমলে ডলার ও বন্ডের তুলনায় সোনা–রুপো নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা: যুদ্ধ, রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিচ্ছেন মূল্যবান ধাতু।
ডলারের ওঠানামা: ডলার দুর্বল হলে সোনা–রুপোর দাম সাধারণত আরও বাড়ে।
সোনার ভবিষ্যৎ কী বলছে বাজার? বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, চলতি বছরের শেষ নাগাদ সোনার দাম প্রতি আউন্স ৬,০০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। কেউ কেউ বলছেন, বর্তমান গতি বজায় থাকলে ৫,৭০০ ডলার ছোঁয়াও অসম্ভব নয়। সোনার এই ঊর্ধ্বগতি সরাসরি প্রভাব ফেলবে রুপোর বাজারেও।
আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন পেশ করতে চলেছেন কেন্দ্রীয় বাজেট। গত বাজেটে সোনা চোরাচালান রুখতে আমদানি শুল্ক ১৫% থেকে কমিয়ে ৬% করা হয়েছিল। এবারও বিনিয়োগকারীদের আশা- শুল্ক আরও কমলে ঘরোয়া বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।
তবে শুল্ক বাড়লে বা অপরিবর্তিত থাকলে, সোনা–রুপোর দাম আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে বলেই আশঙ্কা।
বিয়েবাড়ি ও উৎসবের মরসুমের আগে দামের এই উল্লম্ফন মধ্যবিত্তের পকেটে চাপ বাড়ালেও, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা এটিকে বড় সুযোগ হিসেবেই দেখছেন। এখন সব নজর- ফেডের সিদ্ধান্ত ও বাজেট ঘোষণার দিকে। বাজেট কি দামে লাগাম টানবে, নাকি সোনা-রুপো আরও আগুন ছড়াবে? উত্তর মিলবে খুব শিগগিরই।