ককরোচ জনতা পার্টির লাগাতার আন্দোলনের জের। শেষমেশ শিক্ষামন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়াতে 'বাধ্য' হলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। আর এই ঐতিহাসিক কর্ম-কাণ্ডের নেপথ্যে দেশের পড়ুয়া এবং যুব সমাজকেই স্বীকৃতি দিচ্ছেন সিজ...
ককরোচ জনতা পার্টির লাগাতার আন্দোলনের জের। শেষমেশ শিক্ষামন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়াতে 'বাধ্য' হলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। আর এই ঐতিহাসিক কর্ম-কাণ্ডের নেপথ্যে দেশের পড়ুয়া এবং যুব সমাজকেই স্বীকৃতি দিচ্ছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর মতে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত আসলে 'গণতন্ত্রের জয়'।
শনিবার ধর্মেন্দ্রের ইস্তফার খবর যন্তর মন্তরে পৌঁছোতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন উপস্থিত ছাত্র-যুবরা। আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অভিজিৎ। চোখে জল দেখা যায় মঞ্চে থাকা বাকিদের চোখেও। এরপর ওই মঞ্চে দাঁড়িয়েই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন সিজিপি প্রতিষ্ঠাতা। বলেন, 'ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাই প্রমাণ করে যে আপনারা যদি ভয় না-পান, সরকারের কাছে মাথা নত না-করেন, তবে আমরা যে কারও পদত্যাগপত্র আদায় করতে পারি।' তাঁর কথায়, 'আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলাম, কোনও মেধাবী পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ ‘পরীক্ষা মাফিয়াদের’ হাতে নষ্ট হতে দেব না। কারও প্রতি অবিচার হতে দেব না। পরিবর্তনের জন্য ধারাবাহিক শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের বিকল্প কোনও পথ নেই।'
তবে ধর্মেন্দ্র ইস্তফা দিলেও এখনই রাস্তা ছাড়ছেন না অভিজিতরা। কারণ কেন্দ্রের কাছে তাঁরা যে তিন দাবি জানিয়েছিল, তার প্রথম টা পূরণ হলেও বাকি দুটো নিয়ে সরকারের তরফে এখনও কিছু প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। সেই দুটি হল- আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না করার নিশ্চয়তা এবং নিটের প্রশ্নফাঁসে আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের নিশ্চয়তা। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দু-দফার বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তাঁদের। সেখানে তাঁদের মৌখিকভাবে দাবি পূরণ হবে বলে জানানো হয়েছে। এই অবস্থায় সরকারের তরফে লিখিতভাবে তাঁদের সেই আশ্বাস দেওয়া হলেই আন্দোলনের রাস্তা থেকে সরে আসবে বলে জানাচ্ছে সিজেপি নেতৃত্বরা।
অন্যদিকে আজ সন্ধ্যা ৬টায় শান্তিপূর্ণ মোমবাতি মিছিল করার অনুমতি চাওয়া হয়েছে প্রশাসনের কাছে। সিজেপি-র জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা জানান, শনিবার তৃতীয় দফায় কেন্দ্রের সঙ্গে আবার আলোচনায় বসার কথা তাঁদের। সেখানে লিখিত ভাবে সরকার সব দাবি মেনে নেওয়ার কথা না-জানালে তাঁরা অবস্থান মঞ্চ ছাড়বেন না বলেই জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, নিটের প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম থেকেই ধর্মেন্দ্রের ইস্তফার দাবিতে সরব সিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডার সঙ্গে দু’দফা বৈঠকে একই দাবিতে অনড় ছিল তারা। শনিবার আবার কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা তাদের। তবে সকালেই সিজেপি-র তরফে দাবি করা হয়েছিল, ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা না-দিলে, আর আলোচনার কোনও অর্থ হয় না। তার পর থেকেই কেন্দ্র-সিজেপি-র তৃতীয় দফার বৈঠকের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। তার মধ্যেই আচমকা পদত্যাগ করলেন ধর্মেন্দ্র।