প্রতিবাদের নাম শুক্রবার ধর্মতলা চত্বরে যা ঘটল, তা কার্যত নজিরবিহীন।পুলিসের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘাত এর আগেও কিছু কম হয়নি। এবং, এই ধর্মতলা চত্বরেই ৩৩ বছর আগে ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মী নিহত হয়েছিলেন পু...
প্রতিবাদের নাম শুক্রবার ধর্মতলা চত্বরে যা ঘটল, তা কার্যত নজিরবিহীন।
পুলিসের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘাত এর আগেও কিছু কম হয়নি। এবং, এই ধর্মতলা চত্বরেই ৩৩ বছর আগে ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মী নিহত হয়েছিলেন পুলিসের গুলিতে। সেদিনও সাংবাদিককে মার খেতে হয়েছিল। কিন্তু, শুক্রবার যে-ভাবে গণহারে সাংবাদিক-প্রহার চলল, তার নজিরবিহীন বললেও কম বলা হবে।
শুধু তা-ই নয়। পুলিসকে লক্ষ্য করে জুতো, জলের বোতল ছোড়া হয়েছে। অন্যদিকে, পুলিস শুধুই লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে গেছে। কলকাতা পুলিসের এই সংযত আচরণের কথা মনে করিয়ে দিয়ে শুক্রবারই মুখ্যমন্ত্রী জানান, যারা এর সঙ্গে যুক্ত তাদের শনাক্ত করা হচ্ছে। হাসপাতালে ভরতি সংবাদমাধ্যমের আহত কর্মীদের দেখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর এহেন বার্তা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে হয়েছিল পর্যবেক্ষকদের । মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “ধর্মতলাকাণ্ডে ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। মোট ৭ টি মামলা হয়েছে। এই প্রথম অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইন প্রয়োগ করা হয়েছে। ছ-জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন"। অভিযুক্তদের মধ্যে ৫ জনের নামও জানান মুখ্যমন্ত্রী, "রাজাবাজারের আফরোজ, খিদিরপুরের নাহিদ, একবালপুরের তনবীর ও নিজাম, ওয়াটগঞ্জের জামাল। গুন্ডাদমন আইনে এমন ব্যবস্থা করব, যাতে করে ৩ পুরুষ ধরে মানে রাখে এরা। গুন্ডাদমন আইন কেন দরকার ছিল, মানুষ এবার তা বুঝতে পারবে”।
নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে দিল্লিতে বিক্ষোভ আন্দোলন চলছে এবং তার আঁচ এসে পড়েছে কলকাতাতেও। শুক্রবার কয়েকটি বাম ছাত্র সংগঠনের ডাকে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়। পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শিয়ালদহ স্টেশনের সামনে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা। ককরোচ ও বামেদের এই যৌথ মিছিল ধর্মতলায় পৌঁছতেই রণক্ষেত্রে হয়ে ওঠে এলাকা। পুলিসকে লক্ষ্য করে জুতো, জলের বোতল ছোড়া হয়। প্রশ্ন ওঠে, প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, মিছিল, সব ঠিক আছে। কিন্তু, আচমকা কেন পুলিসকে নিশানা করা হল?
পুলিস সূত্রে খবর, ককরোচদের মিছিলে ঢুকে পড়েছে ‘অ্যান্টি ন্যাশানালরা’। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যায় পুলিস। তিন ঘণ্টারও বেশি সময় অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ধর্মতলা চত্বর। যান চলাচল থমকে যায়।
শুক্রবারই আহত সাংবাদিকদের দেখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, হামলা চালিয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কিছু দুষ্কৃতীরা। এবং, তাদের একজনকেও রেয়াত করা হবে না।