অখণ্ড ভারত সর্বশ্রেষ্ঠ ভারত। আজ থেকে প্রায় ৮৩ বছর আগেকার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যখন তুমুলে সেই সময়কার একটি ম্যাপের হদিশ পাওয়া গেল। সমাজ মাধ্যমে যে ম্যাপটা ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। ইতিমধ্যেই লক্ষ লক্ষ মানুষ...
অখণ্ড ভারত সর্বশ্রেষ্ঠ ভারত। আজ থেকে প্রায় ৮৩ বছর আগেকার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যখন তুমুলে সেই সময়কার একটি ম্যাপের হদিশ পাওয়া গেল। সমাজ মাধ্যমে যে ম্যাপটা ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। ইতিমধ্যেই লক্ষ লক্ষ মানুষ তা দেখেছেন, কমেন্ট করেছেন, লাইক, শেয়ারও করেছেন। মজার ব্যাপার হল সেই কমেন্ট করা মানুষদের মধ্যে প্রচুর বাংলাদেশি এবং পাকিস্তানিও রয়েছেন।
সময়টা ১৯৪২ সাল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তখন চরমে। ভারতের স্বাধীনতা আসতে তখনও ৫ বছর দেরি। নেতাজি দেশ ছেড়ে জার্মানি হয়ে জাপানে গিয়ে আজাদ হিন্দ ফৌঁজের সর্বাধিনায়কের দায়িত্বভার নিচ্ছেন। বৃটিশদের টুঁটি চেপে ধরেছে জাপানিরা। সেই আবহে ১৯৪২ সালে তাৎপর্যপূর্ণভাবে আমেরিকার পেনসিলভেনিয়ার ফিলাডেলফিয়ার বাসিন্দা মরিস গোমবার্গ একটি ম্যাপ বা মানচিত্র প্রকাশ করেছিলেন। সেই ম্যাপের নাম তিনি দিয়েছিলেন নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার ম্যাপ। কি ছিল সেই ম্যাপে?
মরিস ভবিষ্যৎবানী করেছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবীর মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দেবে। বিশ্বে মাত্র ১৫টি দেশ টিকে থাকবে। কোন কোন দেশ টিকে থাকবে মরিসের মতে আসুন একবার দেখেনি।
বর্তমানে ভারতের যা আয়তন তার প্রায় দ্বিগুন আয়তনের অখণ্ড ভারতের কল্পনা করেছিলেন মরিস। মরিসের অখণ্ড ভারতবর্ষের মানচিত্রে রয়েছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ,নেপাল, ভূটান, মায়ানমার এবং শ্রীলঙ্কা। অর্থাৎ পশ্চিমের ইরান সীমান্ত থেকে পূর্বে বার্মার রেঙ্গুন পর্যন্ত মানে থাইল্যান্ড সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তার লাভ করত ভারতের ভৌগলিক সীমা। আর উত্তরে পামীর মালভূমি থেকে দক্ষিনে শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত এলাকা অখণ্ড ভারতের বলে মনে করেছিলেন মরিস গোমবার্গ। পরে এই অখণ্ড ভারতবর্ষের ম্যাপকেই মান্যতা দিয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ বা আরএসএস।
বলাই বাহুল্য মরিসের অখণ্ড ভারতবর্ষের ভবিষৎবানী যদি সত্যি হতো তাহলে বিশ্বের তৃতীয় মহাশক্তি হতো ভারত। আমেরিকা, রাশিয়ার পরেই। চিন সেখানে চলে যেত চতুর্থ কি পঞ্চম স্থানে। কারণ আরব দেশগুলিকেও একসঙ্গে দেখিয়ে ছিলেন মরিস। পাশাপাশি জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, পর্তুগাল, সুইৎজারল্যান্ড এবং স্পেনকে নিয়েও ইউনাইটেড স্টেটস অফ ইউরোপ বা কিছুটা ইউরোপিয় ইউনিয়নের ধারনার কথাও শুনিয়েছিলেন তিনি। আর আমেরিকার মধ্যে তিনি অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন কানাডা, গুয়াতেমালা,পানামা, নিকারাগুয়া এবং মেক্সিকোকে।
বলাই বাহুল্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মরিসের নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার ম্যাপের ভাবনা মেলেনি। তবে দু দুটি ভবিষ্যতবাণী কিন্তু হুবহু মিলে গিয়েছিল। এক সোভিয়েত ইউনিয়নের ঘটনা আর বিশ্বে ক্ষমতার কেন্দ্র বিন্দুতে আমেরিকার বিচরণ। তবে সোভিয়েতও অমিত শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করে গিয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু অখণ্ড ভারতের স্বপ্ন সফল হল না কেন? কী বলছেন ঐতিহাসিকরা ? ১৯৪৬ সালে ক্যাবিনেট মিশনের ভারত ভাগের প্রস্তাব মানতে চাননি মহাত্মা গান্ধি। জিন্না দ্বিজাতি তত্ত্বে রাজি না হলেও এমনিতেই ভারত ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হত ব্রিটিশরা। কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশরাজের কোমড় ভেঙে গিয়েছিল। নেতাজি ফিরে এলে অখণ্ড ভারতের দাবি থেকে সরতেনই না, বলেছেন রোমিলা থাপার সহ বহু ঐতিহাসিক। মহম্মদ আলি জিন্নার জীবনিকার স্ট্যানলি ওলপার্টও লিখেছেন কিছু ব্যক্তি ইতিহাসের গতিপথকে পরিবর্তন করে দেন, জিন্না তেমনি এক ব্যক্তি। তবে সেই সঙ্গে নেহেরু এবং তৎকালীন কংগ্রেস নেতৃত্ব সম্পর্কে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। কংগ্রেস যদি আরও কঠোর হতো তবে হয়তো এড়ানো যেত ভারতভাগ। তাহলে হয়তো সত্যি হতো অখণ্ড মহাভারতের স্বপ্ন।