ডাক্তারির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-এ প্রশ্ন ফাঁসের পর দিল্লির যন্তরমন্তরে আন্দোলনের নামে ককরোচ পার্টি। সদ্যোজাত এই দলটির ডাকে দিল্লির রাজপথে জড়ো হয় অসংখ্য পড়ুয়া। বিক্ষোভ আন্দোলন তুঙ্গে...
ডাক্তারির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-এ প্রশ্ন ফাঁসের পর দিল্লির যন্তরমন্তরে আন্দোলনের নামে ককরোচ পার্টি। সদ্যোজাত এই দলটির ডাকে দিল্লির রাজপথে জড়ো হয় অসংখ্য পড়ুয়া। বিক্ষোভ আন্দোলন তুঙ্গে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিল্লি পুলিস ও ব়্যাফ লাঠি চালায়, কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায়। অভিযোগ, ছররা গুলিও চালানো হয় নির্বিচারে। এমতাবস্থায়, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বিক্ষোভকারীদের পাশে এসে দাঁড়ান। শাবানা আজমির মতো ব্যক্তিত্বরা অনশনকারীদের মঞ্চে আসেন। পরিস্থিতি ক্রমশ হাতের বাইরে চলে যায়। এবং, বিক্ষোভকারীদের দাবি মেনে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
সংসদে ধর্মেন্দ্রকে অভ্যর্থনা
ওড়িশার সম্বলপুরের বিজেপি সাংসদ ধর্মেন্দ্র প্রধান শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর এদিন সংসদে এলেন। এবং, তাঁর সতীর্থরা তাঁকে অভ্যর্থনা করলেন। যদিও, কেন এই অভ্যর্থনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহল।
প্রথমে শাহী-বার্তা
ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর গেরুয়া শিবিরের চাণক্য অমিত শাহ সমাজমাধ্যমে বার্তা দেন, “বিজেপি কর্মীদের কাছে পদের চেয়ে পড়ুয়া, দেশ ও যুবসমাজ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ সেই আদর্শের প্রতিফলন। নরেন্দ্র মোদীর সরকার যুবসমাজের উৎকণ্ঠাকে গুরুত্ব দেয়। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দোষীদের কঠোরতম শাস্তি সুনিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী যে-সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়।”
মোদীর বার্তা
প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে রবিবার সন্ধেবেলায় নরেন্দ্র মোদীর তৃতীয় ভিডিয়ো-বার্তা শোনা গেল: টাক্সফোর্স গঠন হবে, প্রযুক্তিবিদ নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে। সেই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিচারের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের কথাও ফের উল্লেখ করেন। এবং, সোমবারই যে নতুন বিল আসতে চলেছে, তা নিয়ে আবারও আশ্বস্ত করেন তিনি।
ধর্মেন্দ্র-বার্তা
সমাজমাধ্যমে ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, ‘‘ছাত্র, শিক্ষক, শিক্ষার সংস্কার, সবকিছু নিয়ে চার দশক ধরে নিজেকে নিবেদিত করেছি। আমার বিশ্বাস, শক্তিশালী ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থাই একটা শক্তিশালী রাষ্ট্রের ভিত তৈরি করতে পারে। যুবসমাজের আশা-আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি, যুক্তিযুক্ত দাবিকে আমি গভীর শ্রদ্ধা করি। তরুণের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করা আমাদের রাজনৈতিক কর্তব্য এবং সামাজিক অঙ্গীকার। দেশকে সেবা করার সুযোগ পেয়েছি আমি, তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। একজন মেধবী ছাত্রেরও ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে দেব না, অবিচার হতে দেব না, এই ছিল আমার সঙ্কল্প। গত ১০ দিনে যা ঘটেছে তাতে আমি ব্যথিত। যন্তর মন্তর এবং সারা দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, দেশবিরোধী শক্তি যাতে তার সুযোগ নিতে না পারে, কোনও পড়ুয়া যেন আইনি জটিলতার মধ্যে না-পড়ে, আমার সন্তানরা যাতে নিজেদের কেরিযার তৈরিতে মনোনিবেশ করতে পারে, তা বিবেচনা করে আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছি।’'