সম্প্রতি সিকিমের এক নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ভয়াবহ ধস নামে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ২৫ জন শ্রমিকের। যাঁদের মধ্যে ১১ জন ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার বাসিন্দা। আজ, সোমবার সেই মৃতদের পরিবারের পাশে দা...
সম্প্রতি সিকিমের এক নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ভয়াবহ ধস নামে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ২৫ জন শ্রমিকের। যাঁদের মধ্যে ১১ জন ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার বাসিন্দা। আজ, সোমবার সেই মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে জলপাইগুড়ি যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মৃতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন তিনি। পাশাপাশি প্রশাসন তাঁদের পাশে আছে বলেও এদিন আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।
গত সোমবার, দুপুর ১টা নাগাদ সিকিমের নামচি জেলার সামারদুং এলাকায় এনএইচপিসি-র (NHPC) তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ধস নামে। ওই সময় ২৫ জন শ্রমিক কর্মরত ছিলেন সেখানে। বাংলা ছাড়াও পঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড এবং অসমের শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন ঘটনাস্থলে। পরে সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর চাউর হতেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধারকাজ। সিকিম প্রশাসনের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের উদ্ধারকারী দল কাজে হাত লাগায়। পাঠানো হয় আসানসোলের ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল) থেকে আরও এক উদ্ধারকারী দল।
জানা যায়, ধসের কারণে সুড়ঙ্গের ভিতর মিথেন গ্যাস লিক হতে শুরু করেছিল। সেই কারণেই পরিস্থিতি বেগতিক হয়ে পড়ে। এক মৃতের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বাসরোধ এবং পুড়ে যাওয়ার (বার্ন ইনজুরি) কথা উল্লেখ করেছেন চিকিৎসকরা। সিকিমের এটিএনএম হাসপাতালের অতিরিক্ত সুপার সুরেশ মদন রাসাইলি জানিয়েছিলেন, 'মিথেন গ্যাসের কারণে শ্বাসরোধ হয়ে থাকতে পারে। এই গ্যাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বেঁচে থাকার জন্য ২-৩ মিনিটের বেশি সুযোগ দেয় না।' তাঁর আরও অনুমাণ, মিথেন গ্যাস লিক হওয়ার ফলেই বিস্ফোরণটি হয়েছিল সুরঙ্গে।
এই পরিস্থিতিতে মৃত শ্রমিকদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে আজ জলপাইগুড়ি যান মুখ্যমন্ত্রী। প্রতি পরিবারকে সরকারের তরফে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন তিনি। নিজের হাতে চেক তুলে দেন তাঁদের হাতে। সেইসঙ্গে ঘোষণা করেন, ১১ পরিবারের মধ্যে ন’টি পরিবারের সদস্যদের চাকরি দেওয়া হবে। সাতটি পরিবারের সদস্যরা পাবেন হোমগার্ডের চাকরি, ২ পরিবার সিভিক পুলিসে যোগ দেবেন। জানালেন, ১১ টি পরিবারকে সবমিলিয়ে মোট ২১ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে, আর্থিক সাহায্য পেয়ে কিছুটা নিশ্চিন্তে স্বজনহারা পরিবারগুলি।