গ্যাস সরবরাহ নিয়ে গুজব রুখতে রাজ্যের মুখ্যসচিবদের নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক। বার্তা একটাই, আর গ্যাস-গপ্পো চলবে না।পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে এ দেশে রান্নার গ্যাসের...
গ্যাস সরবরাহ নিয়ে গুজব রুখতে রাজ্যের মুখ্যসচিবদের নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক। বার্তা একটাই, আর গ্যাস-গপ্পো চলবে না।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে এ দেশে রান্নার গ্যাসের নিরবিচ্ছিন্ন জোগান নিয়ে গৃহস্থের কপালে ভাঁজ পড়ে। শুধু গৃহস্থের হেঁশেল নয়, সেই সঙ্গে হোটেল-রেস্তোরাঁর টেবিলও ক্রমশ খালি হতে থাকে। এমতাবস্থায়, বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়ে এবং তা আশঙ্কার আগুনে ঘৃতাহুতি দেয়। প্যানিক-বাইং, অর্থাৎ, পরে আর পাওয়া যাবে কি না সেই আশঙ্কায় অনেক আগেভাগেই গ্যাস-বুকিং শুরু হয়। অল্প সময়ের ব্যবধানে লক্ষ-লক্ষ বুকিং সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে।
এই পরিস্থিতিতে, দেশজুড়ে এলপিজি ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ নিয়ে ভুয়ো খবর ও গুজব ছড়ানো ঠেকাতে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক। বৃহস্পতিবার জারি হওয়া এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, গুজবের জেরে বহু জায়গায় অযথা আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে এবং কোথাও কোথাও হুড়োহুড়ি করে গ্যাস কিনে মজুত করার প্রবণতাও বাড়ছে।
মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, বর্তমানে মাত্র ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল নিয়মিত বা প্রয়োজনে প্রেস ব্রিফ করছে। এই পরিস্থিতিতে বাকি রাজ্যগুলিকেও দ্রুত উদ্যোগী হতে বলা হয়েছে। প্রতিদিন উচ্চপদস্থ স্তরে প্রেস ব্রিফিং এবং সামাজিক ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সঠিক তথ্য দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, এলপিজি-র পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে—এই বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছে দিতে হবে, যাতে অযথা আতঙ্ক না ছড়ায়। পাশাপাশি, কালোবাজারি ও মজুতদারির মতো বেআইনি কার্যকলাপ রুখতেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রের তরফে রাজ্যের মুখ্যসচিবদের ব্যক্তিগতভাবে এই বিষয়ে নজর দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির জেরে সরবরাহ শৃঙ্খলে কিছুটা প্রভাব পড়লেও, গুজবই পরিস্থিতিকে বেশি জটিল করে তুলছে। তাই তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।