বাংলাদেশে জুলাই গণ-অভুথ্যান ও তার জেরে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগ। সেই ঘটনার পর অতিক্রান্ত প্রায় দু'বছর। আপাতত ভারতের মাটিতেই আশ্রয় নিয়ে আছেন হাসিনা। এমতাবস্থায় দেশত্যাগী হওয়ার দু-বছর...
বাংলাদেশে জুলাই গণ-অভুথ্যান ও তার জেরে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগ। সেই ঘটনার পর অতিক্রান্ত প্রায় দু'বছর। আপাতত ভারতের মাটিতেই আশ্রয় নিয়ে আছেন হাসিনা। এমতাবস্থায় দেশত্যাগী হওয়ার দু-বছরের মাথায় প্রথম সাংবাদিক বৈঠক করলেন তিনি। প্রকাশ্যে জানালেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসেই বাংলাদেশে ফিরবেন তিনি। যদিও নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও স্পষ্ট করেননি হাসিনা।
ছাত্র আন্দোলনের জেরে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন মুজিব কন্যা। তারপর থেকে ভারতের সামরিক নিরাপত্তার ঘেরাটোপেই রয়েছেন তিনি। কিন্তু বিগত এই দু'বছরে হাসিনার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের হয়েছে বাংলাদেশের আদালতে। তাঁর বিরুদ্ধে ফাঁসির সাজাও ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অপরাধ ট্রাইবুনাল। জটিল এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ যে তাঁর জন্য খুব একটা নিরাপদ হবে না, তা জেনেও নিজের দেশে ফিরতে মরিয়া সে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। বুধবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে তাঁর অভিযোগ, গত দু'বছরে বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে পিছিয়ে পড়েছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে তাই নিজের দেশকে উদ্ধার করতে বাংলাদেশে ফিরতে চানআওয়ামী লীগ নেত্রী।
গতকাল ভার্চুয়াল বার্তায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকেও নিশানায় নেন হাসিনা। দেশের জিডিপি, শিল্প, কর্মসংস্থানের অভাব-সহ বিভিন্ন প্রসঙ্গ তুলে তুলোধোনা করেন তারেকের সরকারকে। বলেন, 'ধারের টাকায় সরকার চলছে।' আর এই পরিস্থিতির বদল আনতেই বাংলাদেশের ফিরতে চান তিনি। তবে বাংলাদেশে ফেরা নিয়ে তারেকের সরকারের সঙ্গে তাঁর কোনও আলোচনা চলছে না, তা-ও এ দিন স্পষ্ট করে দেন হাসিনা-পুত্র সজীব ওয়াজিদ জয়।
বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকেই হাসিনার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যা বর্তমান সরকারের আমলেও বহাল রয়েছে। গতকাল সে কথা স্মরণ করিয়ে হাসিনার দাবি, তাঁর দলের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। আওয়ামী লীগের পতনের পর থেকে যাঁরা 'রাজনৈতিক বন্দি' হয়েছেন, তাঁদেরও মুক্তির দাবি তুললেন আওয়ামী লীগ নেত্রী।
অন্যদিকে হাসিনার ভার্চুয়াল বার্তা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে বাংলাদেশে তারেক সরকার। তারা এক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, হাসিনাকে এই কর্মসূচির অনুমতি দিলে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ইতিমধ্যেই হাসিনার এ ধরনের কর্মসূচি নিয়ে আপত্তির কথা ঢাকায় ভারতীয় রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদীকে জানিয়েছিল বাংলাদেশ। জানতে চাওয়া হয়েছিল, হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তৃতা দেওয়াকে ভারত সরকার সমর্থন করে কি না। তার উত্তরে নয়া দিল্লির সাফ মন্তব্য, হাসিনার সেই অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই।
প্রসঙ্গত, গত দু'বছরে একাধিকবার হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে কূটনৈতিক স্তরে বার্তা পাঠিয়েছে ঢাকা।ভারত সেই কূটনৈতিক বার্তার প্রাপ্তিস্বীকার করলেও হাসিনা-প্রসঙ্গে কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা ঘোষণা করেনি। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও নয়, তারেকের আমলেও নয়। এ দিন হাসিনা-পুত্র জয় দাবি করেন, হাসিনা এ দেশে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে তাঁকে ‘হেড অফ স্টেট’ হিসেবেই দেখেছে ভারত। হাসিনাও বলেন, 'ভারত আমাদের বন্ধু। বাংলাদেশ যখনই কোনও সমস্যায় পড়েছে ভারত পাশে দাঁড়িয়েছে। ভারত সব সময় ভাল বন্ধু হয়ে থেকেছে। আমি আশা করি ভারত তা-ই থাকবে।'