শুক্রবার যাদবপুর কাণ্ডে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি অশান্তির সূত্রপাত খুঁজতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে। ইতিমধ্যেই যাদবপুরের ক্যা...
শুক্রবার যাদবপুর কাণ্ডে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি অশান্তির সূত্রপাত খুঁজতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে। ইতিমধ্যেই যাদবপুরের ক্যাম্পাসে থাকা সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিস। ওই ফুটেজ খতিয়ে দেখেই তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাবে পুলিস।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিতে যাদবপুরের সঙ্গে যুক্ত কোনও প্রতিনিধিকে রাখা হচ্ছে না। মূলত কমিটিকে স্বচ্ছ রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, কমিটিতে থাকতে পারেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্তন উপাচার্য, কলকাতার আর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য এবং অপর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি বিভাগের অধিকর্তা। তাঁরাই সব ঘটনা খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দেবেন।
অন্যদিকে যাদবপুর থানায় যে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, তাতে একাধিক অভিযোগ জানান হয়েছে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বহিরাগতেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ঢুকে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী ভবনের সামনে আগুন জ্বালিয়েছে। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপের আবেদনও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এফআইআর অনুযায়ী, গত ২০ অগাস্ট ২০২৬ রাত প্রায় ১২টা ৩৭ মিনিটে একদল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি বা বহিরাগত বে-আইনি ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রবেশ করে। কলা-বিজ্ঞান ভবনের সংযোগ রাস্তায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ভবন অরবিন্দ ভবনের গাড়িবারান্দায় পতাকা, পোস্টার ও অন্যান্য সামগ্রীতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এমনকি জ্বলন্ত সামগ্রী গেটের ভিতর দিয়ে ভবনের মধ্যে ছুড়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। ভেঙে দেওয়া হয় ১ নম্বর গেটে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা। হুমকি দেওয়া হয় উপস্থিত ছাত্র ছাত্রীদের। এখানেই শেষ না, ছাত্রদের হস্টেলের দরজা জোর করে ভেঙে ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা হয় বলেও অভিযোগ।
এমতাবস্থায় এই গোটা ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রতীকী ফলক নিয়ে কর্মবিরতি করেন অধ্যাপকরা। তারা অরবিন্দ ভবনে অবস্থান বিক্ষোভ করেন। বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষকদের সকলকে তাতে যোগ দেওয়ার আহ্বানও জানান। এই বিষয়ে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহা বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের পদক্ষেপে খুশি। এটা একটা প্রাথমিক ধাপ। সিসিটিভি ফুটেজ যদি তদন্তের আওতায় নিয়ে আসা যায়, তাহলে সত্যি কারা দোষী, তা জানা যাবে। যদি আমার ভিতরের ছাত্ররাও দোষ করে থাকেন, তাহলে তাঁদেরও শাস্তি হোক। বাইরের কেউ থাকলে, তাঁদেরও যেন শাস্তি হয়।'