শনিবারের বারবেলায় খবরটা পাওয়া গিয়েছিল যখন, তখন বাংলার রাজনৈতিক শিবির বিস্মিত হয়েছিল। কুণাল ঘোষ-সহ দলের একটা বড় অংশের আপত্তি সত্ত্বেও যাঁকে কলকাতা উত্তর থেকে লোকসভায় প্রার্থী করেছিলেন দলনেত্রী, সেই&...
শনিবারের বারবেলায় খবরটা পাওয়া গিয়েছিল যখন, তখন বাংলার রাজনৈতিক শিবির বিস্মিত হয়েছিল। কুণাল ঘোষ-সহ দলের একটা বড় অংশের আপত্তি সত্ত্বেও যাঁকে কলকাতা উত্তর থেকে লোকসভায় প্রার্থী করেছিলেন দলনেত্রী, সেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিদ্রোহী ব্লকে যোগ দিলেন!
এখানেই শেষ নয়। সূত্রের খবর, অমিত শাহের কমবেশি পৌনে ১ ঘণ্টার বৈঠকও হয় সুদীপের। এবং, একই গাড়িতে দুই বিদ্রোহী সাংসদ, শতাব্দী রায় ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা যায় শনিবার।
বাংলায় তৃণমূলের পরিষদীয় দল মমতা-অভিষেকের হাত-ছাড়া হওয়ার পর, দিল্লিতে সংসদীয় দলে বিদ্রোহ শুরু হয়। এবং, সেই বিদ্রোহ শুরু হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও এক আস্থাভাজন কাকলি ঘোষদস্তিদারের নেতৃত্বে। শতাব্দী রায়-সহ একে-একে যোগ দেন বিদ্রোহী ব্লকে। সংখ্যা ক্রমশ বাড়তেই থাকে। ১৮, ১৯, ২০, ২১...। এই ব্লকে যোগ দিতে দেখা যায় মালা রায়কেও। এমতাবস্থায়, লা-পাতা সায়নী ঘোষ আচমকাই চোখ-মুখ ঢেকে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে আসেন। এবং, শনিবার তিনি যুব কংগ্রেস সভানেত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন (মতান্তরে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়)। সবমিলিয়ে সংখ্যাটা ২২ ছুঁতে চলেছে।
বিদ্রোহী-ব্লক ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, তারা এনডিএ-কে সমর্থন করবে। যদিও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বর্ষীয়ান সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেবেন বলে জল্পনা তৈরি হয়। কলকাতা থেকে বিজেপি নেতা ও রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায় কটাক্ষ করে বলেন, “সুদীপ তো বোঝা, ওঁর বোঝা বিজেপি বহন করবে কেন”?
রাজধানীর রাজনৈতিক মহল মনে করছে, দিল্লিতে ঋতব্রত-মডেল হবে নাকি অন্য মডেল তা নিয়ে ধন্দ থাকলেও এটুকু বলা যায়, তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের এখনই অন্তত দলে নেবে না বিজেপি। সূত্রের খবর, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাংশ তাঁদের নিতে রাজি থাকলেও রাজ্য নেতৃত্বের প্রবল আপত্তিতেই নাকি বিদ্রোহীদের দলে নেওয়া হচ্ছে না। এমতাবস্থায় প্রশ্ন একটাই, বিদ্রোহী ব্লকের তরফে এনডিএ-র সঙ্গে সংযোগ রেখে চলবে কে? সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি কাকলি ঘোষদস্তিদার?
সামনের জুলাইতেই সংসদের বাদল অধিবেশন। অঝোর বর্ষণ এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।