মুন্নি চৌধুরী: নবান্নের বৈঠকখানা শনিবার দুপুরে পরিণত হয়েছিল এক বিশেষ শ্রেণিকক্ষে। বেঞ্চে বসেছিলেন রাজ্যের নবনিযুক্ত মন্ত্রীরা, আর শিক্ষককের ভূমিকায় ছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সরকা...
মুন্নি চৌধুরী: নবান্নের বৈঠকখানা শনিবার দুপুরে পরিণত হয়েছিল এক বিশেষ শ্রেণিকক্ষে। বেঞ্চে বসেছিলেন রাজ্যের নবনিযুক্ত মন্ত্রীরা, আর শিক্ষককের ভূমিকায় ছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সরকারের পথচলা শুরু হতেই প্রশাসনিক কাজকর্ম, দায়িত্ববোধ এবং সুশাসনের পাঠ দিতে সহকর্মীদের নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করলেন তিনি।
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর গঠিত নতুন মন্ত্রিসভায় রয়েছেন একাধিক নতুন মুখ। কেউ প্রথমবার বিধায়ক হয়েই পেয়েছেন মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব, আবার অনেকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থাকলেও প্রশাসনিক দফতর চালানোর অভিজ্ঞতা সীমিত। সেই কারণেই দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম পর্বেই মন্ত্রীদের জন্য বিশেষ ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
প্রশিক্ষণ শিবিরে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর দুষ্মন্ত নারিয়েল, স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ, অনুপ আগরওয়ালা ও সুনীল গুপ্ত-সহ একাধিক শীর্ষ আমলা। তাঁরা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, আইনি কাঠামো, সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিয়ম এবং মন্ত্রীদের সাংবিধানিক দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন।
তবে শিবিরের মূল আকর্ষণ ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। সহকর্মী মন্ত্রীদের উদ্দেশে শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা ছিল স্পষ্ট— সরকার পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে সততা, স্বচ্ছতা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণকে। তিনি মন্ত্রীদের নির্দেশ দেন, কোনও ফাইলে সই করার আগে তা ভালোভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। একইসঙ্গে অযথা ফাইল আটকে না রেখে দ্রুত নিষ্পত্তির উপর জোর দেন। সরকারি পরিষেবা যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি। শুধু প্রশাসনিক কাজ নয়, জনসংযোগের ক্ষেত্রেও বিশেষ বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। এলাকায় সফরের সময় অপ্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বলয় এড়িয়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছনোর পরামর্শ দেন তিনি। নতুন দায়িত্বকে ক্ষমতার আসন নয়, মানুষের সেবার সুযোগ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি প্রশিক্ষণ শিবির নয়, বরং নতুন সরকারের কাজের ধরন সম্পর্কে প্রথম আনুষ্ঠানিক বার্তা। দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর মন্ত্রিসভাকে বুঝিয়ে দিতে চাইলেন, সরকার পরিচালনার মূল মন্ত্র হল জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং সময়মতো সিদ্ধান্ত। তৃণমূল জমানায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতর সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে নিশীথ প্রামাণিকেরও। কিন্তু নতুন মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্যই প্রশাসনিক দায়িত্বে একেবারে নবাগত। তাই শুরুতেই ‘পাঠশালা’ খুলে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ভুলত্রুটি এড়ানোর বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই প্রশিক্ষণ শিবির নতুন সরকারের প্রশাসনিক দর্শনেরই প্রতিফলন— যেখানে মন্ত্রিত্ব মানে শুধু পদ নয়, দায়িত্বও।