দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য এবং প্রশ্নফাঁসমুক্ত করতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র সরকার। সংসদের দুই কক্ষেই পাশ হয়েছে পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বি...
দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য এবং প্রশ্নফাঁসমুক্ত করতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র সরকার। সংসদের দুই কক্ষেই পাশ হয়েছে পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬, যা সাধারণভাবে অ্যান্টি-পেপার লিক বিল নামে পরিচিত। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন মিললেই এটি আইনে পরিণত হবে।
বিলটি সংসদে পাশ হওয়ার পরই কড়া বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দেশের পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা খেলবে, কোনও প্রশ্নফাঁস চক্র বা ‘পেপার মাফিয়া’-কেই ছাড় দেওয়া হবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ছাত্রছাত্রীদের স্বপ্ন ও পরিশ্রমকে ধাক্কা দিয়েছে। শুধু একটি সরকার নয়, বহু দশক ধরে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার এই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। তাই এবার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যেই কঠোর আইনি কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে।
তাঁর বক্তব্য, দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে কেন্দ্র ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, দ্রুত তদন্তের ব্যবস্থা, ফাস্ট-ট্র্যাক বিচার, বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন এবং বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় যুগোপযোগী সংস্কার এখন সময়ের দাবি। পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে শুধু আইন করলেই হবে না, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পরীক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতেও সব রাজ্যকে একযোগে কাজ করতে হবে।
নতুন আইনে কী থাকছে?
নতুন সংশোধনী আইনের মাধ্যমে, প্রশ্নফাঁস ও সংগঠিত পরীক্ষায় জালিয়াতির বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির বিধান। দ্রুত তদন্ত ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ। ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের মাধ্যমে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা। প্রশ্নফাঁস চক্র ও পরীক্ষা জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দাবি, এই আইন দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে এবং মেধাবী পড়ুয়াদের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তাঁর কথায়, "দেশের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কোনওরকম আপস করবে না। প্রশ্নফাঁস রুখতে আমাদের অভিযান ভবিষ্যতেও একইভাবে চলবে।" সংসদে বিলটি পাশ হওয়ার পর শিক্ষা মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। কেন্দ্রের দাবি, এই আইন কার্যকর হলে প্রতিযোগিতামূলক ও সরকারি পরীক্ষাগুলিতে প্রশ্নফাঁস এবং সংঘবদ্ধ জালিয়াতি রোধে আরও শক্তিশালী আইনি ভিত্তি তৈরি হবে।