গত ১২ বছর তিনি অল্প সময়ের নোটিসে জাতির উদ্দেশে একাধিক ভাষণ দিয়েছেন। এবং, তাঁর এক-একটি টেলি-ভাষণে দেশজুড়ে একপ্রকার ভূমিকম্প হয়েছে। ২০১৬ সালে নোটবন্দি থেকে শুরু করে ২০২০ সালে কোভিড অতিমারীতে দ...
গত ১২ বছর তিনি অল্প সময়ের নোটিসে জাতির উদ্দেশে একাধিক ভাষণ দিয়েছেন। এবং, তাঁর এক-একটি টেলি-ভাষণে দেশজুড়ে একপ্রকার ভূমিকম্প হয়েছে। ২০১৬ সালে নোটবন্দি থেকে শুরু করে ২০২০ সালে কোভিড অতিমারীতে দেশজুড়ে লকআউট ঘোষণা ভয়ানকরকম অপ্রত্যাশিত ছিল। এরপরও তিনি একাধিকবার টেলিভিশনে ভাষণ দিয়েছেন। কিন্তু, ডাক্তারির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-এর প্রশ্ন-ফাঁসকে ঘিরে যখন উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশের রাজধানী, তখন জেন-জি-র উদ্দেশে বার্তা দিতে টেলি-ভাষণের বদলে ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুককে বেছে নিলেন নরেন্দ্র মোদী।
পরপর দুদিন মধ্যরাতে সমাজমাধ্যমে ভিডিয়ো বার্তায় প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাষণ পর্যন্ত বদলে গেল। ‘মিত্রোঁ’-র বদলের তাঁর মুখে শোনা গেল ‘ফ্রেন্ডস’। এবং, তা অভূতপূর্ব সাড়া জাগালো।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সমাজমাধ্যমে বক্তব্য রেখে একদিকে যেমন মোদী জেন-জি-র মন জয় করলেন, অন্যদিকে, তাঁর ফলোয়ারও বেড়ে গেল হু-হু করে। ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা ‘বন্ধু’রা যেমন ভিডিয়ো বার্তা দেন, একেবারে আটপৌরে ভাবে, ঠিক সেই পথই ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। এমনকি, ক্যামেরার খুব সামনে তাঁর মুখ চলে এসেছে, ফট্রোগাফির ভাষায় যাকে ‘ডিসটর্শন’ বলা হয়। যা দৃষ্টি-মধুর নয়। নেটপাড়ার নাগরিকরা বলছেন, ইচ্ছে করেই ওই অ্যাঙ্গেলে ক্যামেরা রেখে ভিডিয়ো করেছেন মোদী। যা শেষ অবধি একেবারেই ঘরোয়া হয়ে উঠেছে। এবং, এখানেই তাঁর ক্যারিশমা।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভা এমন একটি আইন সংশোধনে অনুমোদন দিল, যা কার্যকরী হলে প্রশ্ন-ফাঁসের দুষ্টচক্রের বিনাশ অবশ্যম্ভাবী। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজেজু জানান, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর এবার সংসদে এই বিল পেশ হবে। এই বিল আইনে পরিণত হলে, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তার ১০ বছর পর্যন্ত জেল ও ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা হবে।