প্রথমে জল্পনা। পরে কল্পনা। তারপর ফের জল্পনা। তৃণমূলের বিদ্রোহী-২০ জন সাংসদ কি সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেবেন, নাকি, এনসিপিআই-র মাধ্যমে এনডিএ-শিবিরে বিলীন হবেন?সংসদে বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার পরও বিদ্রোহী-...
প্রথমে জল্পনা। পরে কল্পনা। তারপর ফের জল্পনা। তৃণমূলের বিদ্রোহী-২০ জন সাংসদ কি সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেবেন, নাকি, এনসিপিআই-র মাধ্যমে এনডিএ-শিবিরে বিলীন হবেন?
সংসদে বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার পরও বিদ্রোহী-২০-র রাজনৈতিক ভাগ্য খানিক অনিশ্চিত ছিল। কিন্তু, অনিশ্চিয়তা নিয়ে কতদিনই-বা থাকা যায়।
অবশেষে অনিশ্চিয়তা কাটিয়ে এদিন লোকসভায় নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে একই আসনে দেখা গেল বিদ্রোহী-শিবিরের নেত্রী কাকলি ঘোষদস্তিদারকে। এবং, তার পিছনের সারিতেই বসলেন শতাব্দী রায়, জুন মালিয়ারা। এবং, এনসিপিআই-র মাধ্যমে এনডিএ-শিবিরে বিলীন হলেন বিদ্রোহী-২০।
প্রসঙ্গত, বাংলায় তৃণমূলের পরিষদীয় দল মমতা-অভিষেকের হাত-ছাড়া হওয়ার পর, দিল্লিতে সংসদীয় দলে বিদ্রোহ শুরু হয়। এবং, লোকসভায় সেই বিদ্রোহ শুরু হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন কাকলি ঘোষদস্তিদারের নেতৃত্বে। শতাব্দী রায়-সহ একে-একে সব যোগ দেন বিদ্রোহী ব্লকে। সংখ্যা ক্রমশ বাড়তেই থাকে। এবং, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগদানের পর বিদ্রোহী-শিবির চাঙ্গা হয়ে ওঠে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমে অমিত শাহের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। পরে, নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও একান্তে আলোচনায় বসেন। এদিকে, ততদিনে ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দিয়ে ঘোষণা করেন, তাঁরা এনডিএ-কে সমর্থন করবেন।
কিন্তু এরই মাঝে জল্পনা তৈরি হয়, কাকলিরা কি এনসিপিআই-র মাধ্যমে ঘুরপথে এনডিএ-শিবিরে যাবেন, নাকি, সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেবেন। এই জল্পনার কারণও ছিল।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এনসিপিআই-নামক যে-দলে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী-২০, সংসদে তার কোনও অস্তিত্ব নেই। এমতাবস্থায়, সংবিধানের দশম তফশিল অনুযায়ী, তাঁদের এনসিপিআই-এর সাংসদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া কঠিন। ইতিমধ্যেই স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে কালীঘাট-তৃণমূল জানিয়েছে, বিদ্রোহী-২০-কে যেন এনসিপিআই-এর সাংসদ হিসেবে স্বীকৃতি না-দেওয়া হয়। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, স্পিকার যদি-বা স্বীকৃতি দেন, মামলা সুপ্রিম কোর্ট অবধি গড়ালে কিন্তু বিপদ। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, সংবিধানের দশম তফশিল নিয়ে শীর্ষ আদালত বিভিন্ন সময়ে যে-রায় দিয়েছে, এবারও তা দিলে বিদ্রোহী-২০ এনসিপিআই-সাংসদ হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন না।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শুধু স্বীকৃতির প্রশ্নই নয়। তৃণমূলের ২০ জন সাংসদকে সরাসরি দলে নিলে বিজেপির সুবিধা। চব্বিশের লোকসভায় বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। নীতীশ কুমারের জেডিইউ আর চন্দ্রবাবু নাইডুর টিডিপি-র উপর নির্ভর করে সরকার গড়তে হয়েছে। এমতাবস্থায়, তৃণমূলের বিদ্রোহী-২০ বিজেপিতে যোগ দিলেন, লোকসভায় গেরুয়া শিবিরের শক্তি বাড়বে।