ককরোচ পার্টির অভিজিৎ দীপকে যখন ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, তখন রাজ্যসভার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার ব্যাখ্যা, ছাত্র-যুবরা তাদের মতো করে বিক্ষোভ দেখাবে এবং পুলিসও তার কাজ করবে। জরুরি অবস্থ...
ককরোচ পার্টির অভিজিৎ দীপকে যখন ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, তখন রাজ্যসভার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার ব্যাখ্যা, ছাত্র-যুবরা তাদের মতো করে বিক্ষোভ দেখাবে এবং পুলিসও তার কাজ করবে। জরুরি অবস্থার সময়ে তিনিও পুলিসি ধরপাকড়ের শিকার হয়েছিলেন বলে দাবি করলেন।
ডাক্তারির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-এর প্রশ্ন ফাঁসকে কেন্দ্র করে দিল্লির যন্তর মন্তর-এ আন্দোলনের নেমেছিল সদ্যোজাত ককরোচ পার্টি। দলমত নির্বিশেষে অনেকেই সেখানে গিয়ে তাঁদের নৈতিক সমর্থন জানিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে যেমন শাবানা আজমির মতো ব্যক্তিত্বরা ছিলেন, ঐশী ঘোষের মতো বাম রাজনীতির তরুণ মুখও ছিলেন। শেষ অবধি, সরকার তাদের সব দাবি মেনে নেওয়ায় গত শনিবার সেই আন্দোলন তুলে নেয় ককরোচ পার্টি। প্রসঙ্গত, সরকারের তরফে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মধ্যস্থতা করার দায়িত্ব দেওয়া জেপি নাড্ডাকে।
দেশজুড়ে নিট-বিক্ষোভকারীদের ধরপাকড়কে ঘিরে তেতে উঠেছে পরিস্থিতি। যাঁদের নামে এফআইআর করা হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করার শর্ততে রাজি হয়েও সরকার কিন্তু ভিন্নপথে হাঁটছে। দিল্লিতে সিপিআই(এম)-এর কার্যালয় একে গোপালন ভবন থেকে ঐশী ঘোষকে গ্রেফতার করতে যায় পুলিস। দলের রাজ্যসভার সাংসদ বিট্রাসের তীব্র প্রতিবাদের মুখে শেষ অবধি খালি হতে ফিরতে হয় পুলিসকে। এমতাবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, যাঁরাই নিট আন্দোলনকে সমর্থন করেছিলেন, তাঁদের পুলিসি হেনস্থার মুখে পড়তে হচ্ছে কেন? যদিও, পুলিসের দাবি, পুরনো একটি মামলার জেরেই তাঁরা ঐশীকে আটক করতে গিয়েছিলেন। যদিও, পুলিসি ভাষ্য আদৌ সত্য নয় বলে দাবি করে রাজ্যসভায় সুর চড়ান বিট্রাস। তখনই নাড্ডাকে বলতে শোনা যায়, “আমিও ছাত্র রাজনীতি করেছি। অনেকবার গ্রেফতার করা হয়েছে আমাকে। জরুরি অবস্থার সময়ে ক্লাসঘর থেকে বহুবার গ্রেফতার করা হয়েছে।”
সেই সঙ্গে নাড্ডার সংযোজন, ছাত্র-যুবরা আন্দোলন করবে, পুলিসও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ করবে।
কেন্দ্রীয় সরকার তাদের যাবতীয় শর্ত মেনে নেওয়ায় শনিবার আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয় ককরোচ পার্টি। প্রসঙ্গত, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা ছাড়াও ককরোচদের বেশ কিছু দাবি ছিল। যার অন্যতম হল, বিক্ষোভ-আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-যুবদের নামে এফআইআর তুলে নিতে হবে। ব্যস। তারপরেই শান্ত হয়েছিল দিল্লির যন্তর মন্তর।
কিন্তু, সোমবার থেকে পরিস্থিতি জটিল হতে শুরু করে। ককরোচ নেতৃত্ব লক্ষ করে, দিল্লি পুলিস এফআইআর তুলে নিলেও বিজেপি-শাসিত একাধিক রাজ্য কিন্তু সেই পথে হাঁটেনি। যার মধ্যে ছিল অসম, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ। সোমবারই ককরোচদের মুখপাত্ররা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ওইসব রাজ্যে অবিলম্বে এফআইআর তুলে না-নিলে ফের আন্দোলন শুরু হবে।