আভাস পাওয়া গিয়েছিল আগেই। এবার তা স্পষ্ট হল। ফের আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিল ককরোচ পার্টি। এবং, দলের মুখ অভিজিৎ দীপকে কেন্দ্রকে নিশানা করে বললেন, “সরকারের লজ্জা পাওয়া উচিত”।
সূত্রপাত
কেন্দ্রীয় সরকার তাদের যাবতীয় শর্ত মেনে নেওয়ায় শনিবার আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয় ককরোচ পার্টি। প্রসঙ্গত, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা ছাড়াও ককরোচদের বেশ কিছু দাবি ছিল। যার অন্যতম হল, বিক্ষোভ-আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-যুবদের নামে এফআইআর তুলে নিতে হবে। ব্যস। তারপরেই শান্ত হয়েছিল দিল্লির যন্তর মন্তর।
কিন্তু, সোমবার থেকে পরিস্থিতি জটিল হতে শুরু করে। ককরোচ নেতৃত্ব লক্ষ করে, দিল্লি পুলিস এফআইআর তুলে নিলেও বিজেপি-শাসিত একাধিক রাজ্য কিন্তু সেই পথে হাঁটেনি। যার মধ্যে ছিল অসম, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ। সোমবারই ককরোচদের মুখপাত্ররা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ওইসব রাজ্যে অবিলম্বে এফআইআর তুলে না-নিলে ফের আন্দোলন শুরু হবে।
এই পরিস্থিতিতে, অসম ও বিহার সরকার বিক্ষোভকারীদের নামে এফআইআর তুলে নেয়। সোমবার রাতেই ওই দুই রাজ্য এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করে। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে, বাংলার বিজেপি সরকার কোন পথে হাঁটবে?
এমতাবস্থায়, সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, ধৃতদের মধ্যে নাবালক কেউ থাকলে অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিতে হবে। এবং, সাবালকদেরও মু্ক্ত করতে হবে, যদি-না সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে অপরাধের পূর্ব ইতিহাস থাকে।
ব্যাঙ্কশাল কোর্টে ধৃতদের আইনজীবীরা জামিনের আর্জি জানান। এবং, ধৃত ১৬ জনই জামিন পান। এরপর নবান্নসূত্রে জানা যায়, নিট-বিক্ষোভকারীদের নামে এফআইআর তুলে নেওয়া হবে, কিন্তু, কোনও দাগি অপরাধীকে রেয়াত করা হবে না।
এমতাবস্থায় ধন্দে পড়ে ককরোচ পার্টি। এবং, অবশেষে দলের মুখ অভিজিৎ দীপকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন: সরকারের লজ্জা পাওয়া উচিত, কথা দিয়ে কথা না-রাখলে আবারও আন্দোলন শুরু হবে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সোমবার সংসদে যেভাবে পদত্যাগী শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরণ করে নিলেন তাঁর সতীর্থরা, তা ভালো চোখ দেখেনি কররোচ নেতৃত্ব। সমাজমাধ্যমেও প্রশ্ন ওঠে, প্রশ্ন ফাঁস রুখতে ব্যর্থ একজনকে কেন সম্বর্ধনা দেওয়া হবে। এদিকে, একাধিক রাজ্য থেকে খবর আসে, নিট-বিক্ষোভকারীরা পুলিসি হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। দিল্লিতে একে গোপালন ভবনে, সিপিআই(এম)-এর কার্যালয়ে এসে, ঐশী ঘোষকে গ্রেফতার করতে চায় দিল্লি পুলিস। ঐশীর সতীর্থরা বাধা দিলে শেষ অবধি অবশ্য খালি হাতেই ফিরতে হয় পুলিসকে। প্রসঙ্গত, দিল্লিতে যন্তর মন্তর-এর ধরনায় ঐশীকেও দেখা যায়। এমতাবস্থায় বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, নিট আন্দোলনকারীদের নিশানা করে গ্রেফতারির পথে হাঁটতে চাইছে পুলিস। তাই, ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন অভিজিৎ দীপকে।