তিন দফা দাবি মেনেছে কেন্দ্র। তাই দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে অবস্থান-বিক্ষোভ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল ককরোচ জনতা পার্টি। শনিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে বৈঠকের পর স...
তিন দফা দাবি মেনেছে কেন্দ্র। তাই দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে অবস্থান-বিক্ষোভ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল ককরোচ জনতা পার্টি। শনিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে বৈঠকের পর সিজেপি জানিয়েছে, তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে কেন্দ্র। তাই এতদিন ধরে যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলছিল তা প্রত্যাহার করছে তাঁরা। বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠক করে সিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, 'সদিচ্ছার সঙ্গেই অবস্থান প্রত্যাহার করা হচ্ছে। আমরা আশা করি সরকারের দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই সব শর্ত বাস্তবায়ন করবে।'
গত দেড় মাস ধরে নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে একটানা আন্দোলন চালিয়েছে গেছে ককরোচ জনতা পার্টি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন বিশিষ্টজন। তরুণ প্রজন্ম তো বটেই, যন্তর মন্তরে'র সামনে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মত। এমতাবস্থায় টানা ৩৬ দিন সেই অবস্থান চালানোর পর শনিবার তা প্রত্যাহার করল সিজেপি। তবে রাস্তা ছাড়ার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁরা তাঁদের দাবিতে অনড় ছিল। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, সরকারের কাছে মাথা নত করেননি তাঁরা। সরকার সব দাবি মেনেছে বলেই তাঁরা রাস্তা ছেড়েছে।
মোট তিনটি দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছিল আরশোলারা। প্রথম, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। দ্বিতীয়, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না করার নিশ্চয়তা। এবং তৃতীয়, নিটের প্রশ্নফাঁসে আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের নিশ্চয়তা। এর মধ্যে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় দাবি কেন্দ্র মৌখিকভাবে মেনে নিলেও প্রথম দাবি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। যদিও সেই শেষমেশ সেই অনিশ্চয়তা কাটিয়ে পদত্যাগ দিতে 'বাধ্য' হন ধর্মেন্দ্র। পাশাপাশি বাকি দুটি দাবিও আজকের বৈঠকে মেনে নেয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
অন্যদিকে আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না শর্তেও রাজি হয়েছে কেন্দ্র। সেই প্রসঙ্গ তুলে সৌরভ বলেন, 'এই দাবি শুধু দিল্লিতে দায়ের হওয়া মামলার ক্ষেত্রে ছিল না। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধেই সব মামলা তোলার দাবি ছিল। সেই দাবি মেনে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।' এই পরিস্থিতিতে ককরোচ'রা চায় কেন্দ্র আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই তাঁদের প্রতিশ্রুতি পালন করুক।