অবশেষে আজ, বুধবার থেকেই কার্যকর হল ভারত-ব্রিটেন বাণিজ্য চুক্তি। যার ফলে এবার থেকে ৯৯ শতাংশ পণ্য বিনা শুল্কে ব্রিটেন থেকে আমদানি করতে পারবে ভারত। ফলে দেশীয় বাজারে সস্তা হবে ব্রিটেনের একগুচ্ছ পণ্য। বাড়ব...
অবশেষে আজ, বুধবার থেকেই কার্যকর হল ভারত-ব্রিটেন বাণিজ্য চুক্তি। যার ফলে এবার থেকে ৯৯ শতাংশ পণ্য বিনা শুল্কে ব্রিটেন থেকে আমদানি করতে পারবে ভারত। ফলে দেশীয় বাজারে সস্তা হবে ব্রিটেনের একগুচ্ছ পণ্য। বাড়বে দুই দেশের বাণিজ্যিক চাহিদাও।
১৪ দফা আলোচনার পর গত বছরের ২৪ জুলাই বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর হয় ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে। উপস্থিত ছিলেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীরা। ঐতিবাহিক এই চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পরেই আশার আলো দেখতে শুরু করে বাণিজ্যিক মহল। গত বছরই এই চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পর সমাজমাধ্যমে একটি ইতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন ভারতে নিযুক্ত ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত লিন্ডি ক্যামেরন। এক্স মাধ্যমে তিনি লিখেছিলেন, 'কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে! ব্রিটেন ও ভারত আগামী ১৫ জুলাই থেকে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর করতে সম্মত হয়েছে। এটি এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। উভয় দেশের অর্থনীতির জন্য এই চুক্তি এক নতুন যুগের সূচনা করবে।' জানা গিয়েছে এই চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটেন থেকে আমদানিকৃত পণ্যে গড় শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হবে। ফলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে ৮৫ শতাংশ পণ্য হয়ে উঠবে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত।
এমতাবস্থায় অর্থনৈতিক মহলের মতে, এই ঐতিহাসিক চুক্তির ফলে ব্রিটেন থেকে আমদানি করা বহু পণ্যের দাম একধাক্কায় অনেকখানি কমে যাবে। দাম কমবে স্কচ হুইস্কি এবং জিনের। এগুলোর উপর থাকা ১৫০ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ৭৫ শতাংশ করা হবে। এছাড়া ব্রিটেনের বিলাসবহুল গাড়ি যেমন, জাগুয়ার, ল্যান্ড রোভার এবং রোলস-রয়েস গাড়ি গুলোর উপর শুল্ক ১০০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হবে। এরফলে এইসব গাড়ির দাম একধাক্কায় ২০-৩০ শতাংশ কমে যাবে। এছাড়াও সস্তা হবে, ব্রিটেন থেকে আমদানিকৃত স্যামন, ভেড়ার মাংস, চকোলেট, বিস্কুট, পোশাক, আসবাব, নরম পানীয়, প্রসাধনী পণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং মহাকাশযান যন্ত্রাংশ।
একইভাবে ব্রিটেনে রপ্তানি বিভিন্ন ভারতীয় পণ্যেরও শুল্ক শূন্য হবে। এর ফলে ভারতের বস্ত্রশিল্পে জোয়ার আসবে। ভারত থেকে ব্রিটেনে রপ্তানি করা গয়না এবং চামড়ার ব্যাগ ও জুতার মতো পণ্য এখন করমুক্ত হবে। ৯৯ শতাংশ ভারতীয় পণ্য বিনা শুল্কে রপ্তানি হবে ব্রিটেনে। এর ফলে রত্ন, গহনা, সামুদ্রিক পণ্য, চা, মশলা, কৃষিজ রাসায়নিক ক্ষেত্রগুলি ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে। লাভবান হবে ভারতের ৬ কোটি এমএসএমই।