'এটি গণতন্ত্রের জয়। শান্তি, অধ্যাবসায় এবং ধৈর্যের জয়।' ধর্মেন্দ্রের ইস্তফার খবর কানে যেতেই আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বার্তা দিলেন সোনম ওয়াংচুক। শনিবার ককরোচ পার্টির তিনটি দাবিই পূরণ করেছে সরকার। যার মধ্য...
'এটি গণতন্ত্রের জয়। শান্তি, অধ্যাবসায় এবং ধৈর্যের জয়।' ধর্মেন্দ্রের ইস্তফার খবর কানে যেতেই আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বার্তা দিলেন সোনম ওয়াংচুক। শনিবার ককরোচ পার্টির তিনটি দাবিই পূরণ করেছে সরকার। যার মধ্যে অন্যতম শিক্ষামন্ত্রী পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা। বাকি দুটো হল আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না করার নিশ্চয়তা। এবং নিটের প্রশ্নফাঁসে আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের নিশ্চয়তা।
শনিবার আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বার্তা পোস্ট করে সঙ্গে নিজের একটি হাসিমুখে ছবিও জুড়ে দেন সোনম। সেখানে হাসপাতালের বিছানায় বসে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। বা হাতের দুই আঙুল দিয়ে দেখান 'ভিকট্রি সাইন'। জয়ের চিহ্ন। টানা ২৬ দিন অনশনে থেকে তিনিও সে জয়ের ভাগীদার।
গত দেড় মাস ধরে নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে একটানা আন্দোলন চালিয়েছে গেছে ককরোচ জনতা পার্টি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন বিশিষ্টজন। তরুণ প্রজন্ম তো বটেই, যন্তর মন্তরে'র সামনে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মত। সেই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে গত মাসে অনশনে বসেছিলেন সোনম। তাঁরও দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা। এই পরিস্থিতে গত দু'দিনে সিজেপি-র সঙ্গে কেন্দ্রের দু’দফায় বৈঠক হয়। সিজেপি-র তিন দফা বৈঠকের মধ্যে দু’দফায় ‘সায়’ দেয় কেন্দ্র। কিন্তু ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা নিয়ে টানাপড়েন অব্যাহত থাকে। এই টানাপড়েনের আবহেই সিজেপি হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, যত দিন না ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দেবেন, তত দিন আন্দোলন জারি থাকবে। এই অবস্থায় শনিবার তৃতীয় দফা বৈঠকের আগেই সিজেপির সব দাবিকে মান্যতা দেয় কেন্দ্র।
গত ২০ জুন যন্তর মন্তরের সামনে সিজেপি অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করে। ২৮ জুন থেকে অনশন শুরু করেছিলেন সোনম। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দিল্লি হাই কোর্ট জানান, ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার খেয়াল রাখতে হবে। তারপরই ভোরে দিল্লি পুলিস গিয়ে ওয়াংচুককে ধর্নামঞ্চ থেকে সফদরজঙ্গ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে অ্যাংমো দাবি করেন, হাসপাতালে ঠিকমতো চিকিৎসা হচ্ছে না ওয়াংচুকের। তার পরই তিনি দিল্লি হাই কোর্টের কাছে আবেদন জানান, ওয়াংচুককে পছন্দের কোনও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানোর অনুমতি দেওয়া হোক। এরপর আদালতের অনুমতি পেয়ে সোনমকে একটি বেসরকারি হাসপাতলে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন তিনি। গত বৃহস্পতিবার অনশনের ২৬ দিনের মাথায় হাসপাতালে যান কেন্দ্রের দুই মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহ। ওয়াংচুকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি যে দাবিগুলি জানিয়েছিলেন, সেগুলি মানা হবে বলে জানান দুই মন্ত্রী। তারপরেই অনশন থেকে সরে আসেন ওয়াংচুক।