রাজ্যসভায় তৃণমূলের তিন পদত্যাগী সাংসদ পদ্ম-প্রতীকে জয়ী হয়ে ফের রাজ্যসভায় গেছেন। যা নিয়ে বিজেপির অন্দরেই বিতর্ক হয়েছিল। এমতাবস্থায়, লোকসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদের সরাসরি বিজেপি-যোগ নিয়ে একইরকম বিতর্ক দেখা দিয়েছে বলে সূত্রের খবর।
সংসদে বাদল অধিবেশনের আগেই তৃণমূলের বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদ ঘটা করে এনসিপিআই-নামক বেনামি বন্দরে তরী ভিড়িয়েছিলেন। এবং, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বাসভবনে গিয়ে তাঁরা আবেদন করেছিলেন, তাঁদের জন্য যেন আলাদা বসার বন্দোবস্ত করা হয়।
এমতাবস্থায়, বাদল অধিবশেন শুরু হওয়ার আগের দিন সর্বদল বৈঠকে আমন্ত্রিত হন বিদ্রোহী শিবিরের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষদস্তিদার। সুদীপ ওই বৈঠকে যোগ দিয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে জানান, অধিবেশন শুরু হলে তাঁকে এনসিপিআই-এর দলনেতার ভূমিকায় দেখা যাবে। যদিও, সংসদে যে-দলের কোনও প্রতিনিধি নেই, সেই এনসিপিআই-কে কেন ডাকা হল সর্বদল বৈঠকে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র-সহ বিজেপি-বিরোধীরা প্রতীকী ওয়াকআউট করেন।
এমতাবস্থায়, বাদল অধিবেশন শুরু হলে দেখা যায়, বিদ্রোহী-২০-র জন্য সেভাবে আলাদা বসার বন্দোবস্ত করা হয়নি। এবং, স্পিকার ওম বিড়লা ওই ২০ জনকে এনসিপিআই-র সাংসদ হিসেবে স্বীকৃতি দেননি এখনও পর্যন্ত।
পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ মনে করেন, এনডিএ-শিবিরের শরিক-দল হয়ে নয়, সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন সুদীপ-কাকলিরা।
জল্পনার কারণ এক ও একাধিক।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এনসিপিআই-নামক যে-দলে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী-২০, সংসদে তার কোনও অস্তিত্ব নেই। এমতাবস্থায়, সংবিধানের দশম তফশিল অনুযায়ী, তাঁদের এনসিপিআই-এর সাংসদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া কঠিন। ইতিমধ্যেই স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে কালীঘাট-তৃণমূল জানিয়েছে, বিদ্রোহী-২০-কে যেন এনসিপিআই-এর সাংসদ হিসেবে স্বীকৃতি না-দেওয়া হয়। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, স্পিকার যদি-বা স্বীকৃতি দেন, মামলা সুপ্রিম কোর্ট অবধি গড়ালে কিন্তু বিপদ। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, সংবিধানের দশম তফশিল নিয়ে শীর্ষ আদালত বিভিন্ন সময়ে যে-রায় দিয়েছে, এবারও তা দিলে বিদ্রোহী-২০ এনসিপিআই-সাংসদ হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন না।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শুধু স্বীকৃতির প্রশ্নই নয়। তৃণমূলের ২০ জন সাংসদকে সরাসরি দলে নিলে বিজেপির সুবিধা। চব্বিশের লোকসভায় বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। নীতীশ কুমারের জেডিইউ আর চন্দ্রবাবু নাইডুর টিডিপি-র উপর নির্ভর করে সরকার গড়তে হয়েছে। এমতাবস্থায়, তৃণমূলের বিদ্রোহী-২০ বিজেপিতে যোগ দিলেন, লোকসভায় গেরুয়া শিবিরের শক্তি বাড়বে।
সূত্রের খবর, এই ২০ জনের বিজেপি-যোগ নিয়ে গেরুয়া শিবিরের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। বঙ্গবিজেপির একাংশ বলছে, যাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে ক্ষমতায় এল দল, সেই তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের দলে নেওয়া হলে কর্মীদের কাছে ভুল বার্তা যাবে। প্রসঙ্গত, রাজ্যসভায় তৃণমূলের তিন পদত্যাগী সাংসদ ইতিমধ্যেই পদ্মপ্রতীকে মনোনীত হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে।
যদিও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, “দলের কিছু বাধ্যবাধকতা আছে, সমর্থকদের তা বুঝতে হবে”। পর্যবেক্ষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন শমীকের মন্তব্য, বিজেপির তৃণমূলীকরণ হবে না। এবং, বিশেষ করে নিচুতলার কর্মী, যাঁদের অত্যাচারে ঘরবাড়ি ছাড়তে হয়েছিল বিজেপি কর্মীদের, তাঁদের কারুকেই কিন্তু দলে নেওয়া হবে না।