শেখ হাসিনার ফাঁসির ঘোষণার আগে এবং পরে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী-সহ একাধিক এলাকা। কোথাও পুলিসের গাড়িতে আগুন আবার কোথাও দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। এই অবস্থায় ঢাকা এবং ...
শেখ হাসিনার ফাঁসির ঘোষণার আগে এবং পরে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী-সহ একাধিক এলাকা। কোথাও পুলিসের গাড়িতে আগুন আবার কোথাও দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। এই অবস্থায় ঢাকা এবং বরিশালে দুজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহতও হয়েছেন বেশ কয়েকজন।
গত বছর বাংলাদেশে জুলাই গণঅভ্যুথান ও তারপর শেখ হাসিনার দেশান্তরের পর কেটে গিয়েছে প্রায় দেড় বছর। গতকাল, সোমবার গণবিক্ষোভের পাঁচটি অভিযোগের ভিত্তিতে সেদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর ফাঁসির রায় ঘোষণা হয়েছে। একইসঙ্গে ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে। রাজসাক্ষী হওয়ায় সাজা মকুব হয়েছে পুলিসের প্রাক্তন আইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের। তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আর এই আবহেই ফের একবার উত্তেজনা ছড়াল বাংলাদেশে। সেদেশের এক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, হাসিনার সাজা ঘোষণা পর সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার পল্লবী থানা এলাকায় তিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি হেলমেট পড়ে বিএনপির এক যুব কর্মীকে গুলি করে পালায়। এলাকা থেকে পালানোর সময়ে দুষ্কৃতীরা এক অটোচালককেও গুলি করে বলে অভিযোগ। সংঘর্ষে খুন হয় বিএনপি-র ছাত্র শাখার কর্মীও।
অন্যদিকে মুজিবকন্যার মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা হওয়া মাত্রই বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত আটটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে অগ্নিসংযোগ করা হয় দুটি স্কুলভবনেও। তবে একটি স্কুল ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও অপর একটি বিদ্যালয়ের বেশ অনেকটা জায়গা পুড়ে নষ্ট হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে এইসব কিছুর নেপথ্যে করা রয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গতকাল সোমবার থেকেই তৎপর রয়েছে পুলিস।
প্রসঙ্গত, রবিবার মধ্যরাত থেকেই হাসিনার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে জ্বলতে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। দিকে দিকে বিক্ষোভ মিছিল, ভাঙচুর হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দফায় দফায় ককটেল বোমা ছোড়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। ঢাকা থেকে শুরু করে সিলেট, ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়ায় সাতটি বাস, ভ্যান ও অ্যাম্বুল্যান্সে পর্যন্ত আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে খবর মিলেছে।
এমনকি গতকাল রায় ঘোষণার পরে ধানমন্ডি ৩২-এর সামনে ভিড় করতে বিক্ষোভ দেখতে শুরু করেছিলেন উত্তপ্ত জনতা। তাঁদের সেখান থেকে ছত্রভঙ্গ করতে মোতায়েন করা হয় বিরাট পুলিসবাহিনী। পরে পুলিসের দিকেও তারা ইট পাথর ছুড়লে পালটা লাঠিচার্জ শুরু হয়। ফাটানো হয় সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাসের শেল। রাতেও নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ান বিক্ষোভকারীরা। পরে ধানমন্ডি ৩২-এর নিরাপত্তার জন্যে পাহারায় বসান হয় পুলিস আধিকারিকদের।