দীর্ঘ দু-দশক পর বাংলাদেশে ক্ষমতার মসনদে বিএনপি সরকার। মঙ্গলবার সে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করলেন খালেদা পুত্র তারেক রহমান। প্রায় ৩৪ বছর পর ফের কোন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেল ভারতের প্রতিব...
দীর্ঘ দু-দশক পর বাংলাদেশে ক্ষমতার মসনদে বিএনপি সরকার। মঙ্গলবার সে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করলেন খালেদা পুত্র তারেক রহমান। প্রায় ৩৪ বছর পর ফের কোন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেল ভারতের প্রতিবেশী দেশ। এদিন বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে শপথ পাঠ করালেন রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন। আজ ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হয়।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকারে ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। এরপর বিএনপিকে সরিয়ে ২০০৮ সালে ক্ষমতা যায় হাসিনার আওয়ামী লীগের হাতে। তারপর টানা চারবার প্রধানমন্ত্রী পদে বহাল থাকেন মুজিব কন্যা। কিন্তু কালের নিয়মে সেই পদ থেকে একপ্রকার বাধ্য হয়েই ইস্তফা দিয়ে সরে আসতে হয় তাঁকে। অতীত হয় 'বেগম' যুগ।
গত শুক্রবার বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২১২টিতে জয়ী ঘোষিত হয় বিএনপি শিবির। দেশে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ নির্বাচনে বিএনপির এমন 'ফল' যে হতে পারে, তা আশা করেছিলেন অনেকেই। তবে সেই দিক থেকে এবার উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে ছিল জামাত শিবিরও। হাসিনার দলের ভরা ডুবিতে ফাঁকা মাঠে গোল দিয়ে ৭৭টি আসনে জয়ী হয়েছে জামতরা।
আজ বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী তারেকের পাশাপাশি শপথ নিলেন মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্যেরা। তার মধ্যে ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরি, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রমুখ। উল্লেখ্য, তারেকের মন্ত্রিসভায় মন্ত্রীদের ২৫ জনের মধ্যে ১৭ জনই নতুন মুখ। প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে ২৪ জনও নতুন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এবার প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য হলেন।
এদিন বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিশেষ উড়ানে ঢাকায় পৌঁছে গিয়েছিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। সঙ্গে ছিলেন ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি। তাঁদের সে দেশে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের সচিব মহম্মদ নজরুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লা।
প্রসঙ্গত, হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে যায় বাংলাদেশের শাসনভার। তারপর দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে সে দেশ নিয়ন্ত্রণ করেন মহম্মদ ইউনূস ও তাঁর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা। এরপর দীর্ঘ টালবাহানার পর গত বৃহস্পতিবার অবশেষে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জয়ী হয় বিএনপি সরকার। এবার জুলাই আন্দোলনের দগদগে স্মৃতি পেরিয়ে তারেক রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশের গণতন্ত্র কতটা শক্ত হয়, সে দিকেই নজর থাকবে বিশ্বের।