বাংলদেশে ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে লাগাতার অশান্তি বর্তমান। এবার এই আবহেই প্রকাশ্যে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন মৃত নেতার দাদা শরিফ ওমর বিন হাদি। তাঁর দাবি, ভাই ওসমানের মৃত্যুর নেপথ্যে বাংলাদে...
বাংলদেশে ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে লাগাতার অশান্তি বর্তমান। এবার এই আবহেই প্রকাশ্যে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন মৃত নেতার দাদা শরিফ ওমর বিন হাদি। তাঁর দাবি, ভাই ওসমানের মৃত্যুর নেপথ্যে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে শাহবাগে 'শহীদি শপথ' অনুষ্ঠানে ভাইয়ের মৃত্যুর ৬ দিন কেটে যাওয়ার পরেও কেন ইউনূস সরকার কিছু করতে পারছেন না, তা নিয়ে রীতিমত ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
সভায় তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, 'একটা জিনিস আপনারা মনে রাখবেন, বাংলাদেশে জুলাই বিপ্লবের যাঁরা ক্ষমতাধর ছিলেন, যাঁরা রাষ্ট্রকে নিজেদের মনে করতেন তাঁরা কিন্তু আজকে কেউ এই বাংলাদেশে নেই। তাঁরা পালাতে বাধ্য হয়েছেন। ওসমান হাদির বিচার যদি না হয়, আপনারাও একদিন বাংলাদেশ থেকে পালাতে বাধ্য হবেন।' তাঁর সংযোজন, 'যে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতাধীন অবস্থায় ওসমান হাদিকে খুন করা হয়েছে, এর দায় রাষ্ট্র কোনভাবেই এড়াতে পারে না। আপনাদেরও বিচার হবে। আজ হোক বা ১০ বছর পর, আপনাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।' এরপরেই ওমর বিন হাদি সরকারের বিরুদ্ধে কড়া সুর চড়িয়ে বলেন, 'সরকারকে অনুরোধ, দ্রুত খুনিদের আমাদের সামনে উপস্থাপন করুন। নির্বাচনের পরিবেশ যেন বিঘ্নিত না হয়। আপনারাই ওসমান হাদিকে হত্যা করিয়েছেন, আবার আপনারাই এটাকে ইস্যু করে নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করছেন, তা আমরা কখনওই হতে দেব না।'
প্রসঙ্গত, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার কথা ঘোষিত হয়েছে। কিন্তু তার ঠিক আগেই ফের বিক্ষোভের আগুনে জ্বলতে শুরু করেছে বাংলাদ্বেষ। গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে এক সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নাগরিককে। আক্রমণ করা হয়েছে সে দেশের প্রথম সারির দুই সংবাদমাধ্যমে। এমনকি ভাঙচুরও চালান হয়েছে ছায়ানট সাংস্কৃতিক উদ্যানে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশে মৌলবাদীদের দাপাদাপিতে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে ভারতের মাটিতেও। কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে অন্তর্বর্তী প্রধান মহম্মদ ইউনূসকে। এই পরিস্থিতিতে মৃত যুব নেতার দাদার গলায় ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার, নিঃসন্দেহে চাপের হতে চলেছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।