'জুলাই অভ্যুত্থান' নামক অদ্ভুত এক অভ্যুত্থানে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয় ২০২৪ সালে। এবং তারপর থেকে নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী মহম্মদ ইউনূসের অন্তবর্তী সরকারের জমানায় হিন্দু-নিধন যজ্ঞ আরও নৃশং...
'জুলাই অভ্যুত্থান' নামক অদ্ভুত এক অভ্যুত্থানে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয় ২০২৪ সালে। এবং তারপর থেকে নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী মহম্মদ ইউনূসের অন্তবর্তী সরকারের জমানায় হিন্দু-নিধন যজ্ঞ আরও নৃশংস ও নিয়মিত হয়ে ওঠে। খালেদা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার বছর দেড়েক পর অবশেষে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন হয়। আর সেই নির্বাচনে বাংলাদেশ ন্যাশানাল পার্টি বা বিএনপি জয়ের পথে এগিয়ে যায়। যদিও, ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ জন্ম নেয় যাঁর নেতৃত্বে, সেই মুজিবর রহমান ও তাঁর কন্যা শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগকে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এই নির্বাচনে। অন্যদিকে, বিএনপি-র মুখ হয়ে ওঠেন খালেদা-পুত্র তারেক রহমান। জামাত শিবিরকে পরাজিত করে জয়ী হয় বিএনপি জোট। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুভেচ্ছা জানান বিএনপি প্রধান তারেক রহমানকে।
এই পরিস্থিতিতে এপার বাংলায় প্রশ্ন শুধু একটাই, বিএনপি সরকার গঠন হলে কি বাংলাদেশে হিন্দুনিধন যজ্ঞে রাশ টানতে পারবেন খালেদা-পুত্র তারেক? হিন্দু মহিলাদের ধর্ষণে কি লাগাম টানতে পারবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক?
ধর্মীয় উৎপীড়নের কারণে একবস্ত্রে বাংলাদেশ থেকে এপার বাংলায় চলে আসা উদ্বাস্তুদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন মোহিত রায়। ওপার বাংলায় বিএনপি ক্ষমতায় আসার ফলে হিন্দু নির্যাতন কতটা কমবে তা নিয়ে তিনি ঘোর সংশয়ী। বরং, আপাতত কিছুটা কমলেও কিছুদিনের মধ্যে আবার যে-কে-সেই অবস্থা হবে বলেই মনে করেন তিনি। এই প্রসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন ২০০১ সালের এক ও একাধিক ঘটনার কথা। বিএনপি তখন সদ্য ক্ষমতায় এসেছে। খালেদ জিয়া প্রধানমন্ত্রী। একাধিক জেলায় হিন্দুদের ঘরবাড়িতে জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যে-জামাত শিবিরের বিরুদ্ধে এবার লড়াই করে ক্ষমতায় এলো বিএনপি, সেই জামাতরা তখন বেগম জিয়ার দলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে হিন্দুনিধন যজ্ঞে নেমেছে। ২০০১ সালের অক্টোবর মাস থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে শুরু করে যশোর, খুলনা, মুনসিগঞ্জ, ভোলা, নারায়ণগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জে সুপরিকল্পিতভাবে হিন্দুদের উপর আক্রমণ শুরু হয়। এবং ২০০ জন হিন্দু মহিলাকে গণধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের শিকার হয় ৮ বছরের নাবালিকা থেকে শুরু করে ৭০ বছরের বৃদ্ধা। বাংলাদেশের অন্যতম বুদ্ধিজীবী ও সম্পাদক-সাংবাদিক মহম্মদ বদরুল আহসানের একটি লেখায় (১৬ নভেম্বর, ২০০১ সাল) দেখা যায়, ওই সময়ে ২০০ জন হিন্দু মহিলাকে ধর্ষণ করা হয়। হিন্দুদের বাড়িঘর লুঠ করা হয়। আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। প্রাণ ও মান নিয়ে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে আসে একের-পর-এক হিন্দু পরিবার। এপার বাংলার উদ্বাস্তু গবেষক মোহিত রায়ের কথায়, "খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পরই তখন উল্লসিত হয় জামাত শিবির। বিএনপি-কে সঙ্গে নিয়ে হিন্দু পাড়ায় লুঠপাট ও ধর্ষণ চালায় জামাতের দুষ্কৃতীরা। ১ হাজার হিন্দু মহিলা ওই সময়ে ধর্ষিত হন। এটা কিন্তু কোনও গুজব নয়। কারণ, বিষয়টি ওদের সংসদেও ওঠে। ওই সময়ের একটি ঘটনা স্তম্ভিত করে দেয় যে কোনও শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষকে। এক হিন্দু পরিবারে ঢুকে যুবতীকে ধর্ষণ করতে থাকে দুষ্কৃতীরা। সেই ধর্ষকদের লাইন এতই দীর্ঘ হয় যে, যুবতীর মা কাতর কণ্ঠে অনুরোধ করেন, বাবা তোমরা একে-একে যাও, একসঙ্গে এতজন গেলে, মেয়েটা আমার বাঁচবে না। "