নিজের দেশে সুপ্রিম কোর্টে আইনি ধাক্কা খেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনল্ড ট্রাম্প। আমেরিকায় জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বা 'বার্থরাইট সিটিজেনশিপ' বহাল রেখেছে সে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। যা নিয়ে রীতিমত ক্ষুব্ধ প্রে...
নিজের দেশে সুপ্রিম কোর্টে আইনি ধাক্কা খেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনল্ড ট্রাম্প। আমেরিকায় জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বা 'বার্থরাইট সিটিজেনশিপ' বহাল রেখেছে সে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। যা নিয়ে রীতিমত ক্ষুব্ধ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এমনকি সুপ্রিম রায়কে দেশের জন্য 'খুব খারাপ' বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। এই অবস্থায় আদালতের নির্দেশ মেনে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়টি কীভাবে বিবেচনা করবে সরকার, তা নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
মঙ্গলবার (স্থানীয় সময় অনুযায়ী) এই প্রসঙ্গে একটি এক্স পোস্ট করেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি লেখেন, 'জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব লাভ করার বিষয়টি বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট, যা আমাদের দেশের জন্য খুবই খারাপ। কিন্তু আমরা কংগ্রেসে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সহজেই এর সমাধান করতে পারি। এর জন্য কোনও দীর্ঘ এবং জটিল সাংবিধানিক সংশোধনের প্রয়োজন হবে না। ব্যয়বহুল এবং অন্যায্য এই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব প্রথা বন্ধ করার জন্য কংগ্রেসের এখন থেকেই কাজ শুরু করা উচিত। এই কাজে তারা আমার পূর্ণ এবং সর্বাত্মক সমর্থন পাবে।'
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার মার্কিন শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, সে দেশের মাটিতে জন্মগ্রহণকারী সকলেরই নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস রায় ঘোষণা করতে গিয়ে বলেন, '১৪তম সংশোধনীর প্রবক্তারা সেই প্রতিশ্রুতি এই দেশের প্রতিটি স্বাধীন ভাবে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তির হাতে তুলে দিয়েছিলেন। আমরা আজ সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছি।' পাশাপাশি ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত।
প্রসঙ্গত, দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসেই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব আইনে বদল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রায় ১৫৭ বছরের পুরনো আইন বদলানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি। সেইমত শুরু হয়েছিল আইনি প্রক্রিয়াও। কিন্তু মঙ্গলবার তা কার্যত খারিজ করে দেয় আদালত। আমেরিকার সংবিধান অনুযায়ী, সেখানে জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশুকে স্বাভাবিক ভাবে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। সেই শিশুর মা-বাবা অন্য দেশের নাগরিক হলেও শিশু জন্মসূত্রে আমেরিকার নাগরিকত্ব পাবে।